ভোপাল: সারা দেশ বর্তমানে দীর্ঘদিন ধরে লড়ছে করোনার সঙ্গে। এরমধ্যে নতুন উৎপাত হিসেবে দেখা দিয়েছে পঙ্গপাল। এই নতুন বিপদকে হালকা ভাবে নেওয়ার সাহস দেখাতে পারছেন না কৃষকরা। তাই পঙ্গপাল রুখতে সচেষ্ট হয়েছে প্রশাসনও। এই ক্ষতিকারক পতঙ্গদের বিনষ্ট করতে রাসায়ানিক পদার্থ ব্যবহার করা হচ্ছে নানান জায়গায়।

এবার এই পতঙ্গদের তাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে মধ্যপ্রদেশের পুলিশ, দমকল কর্মীরা। পঙ্গপালদের ভয় দেখাতে খুব জোরে সাইরেন ব্যবহার শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। সংবাদসংস্থা এএনআই-এর একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মধ্যপ্রদেশের পান্নাতে পঙ্গপালের ঝাঁককে ভয় দেখাতে পুলিশ ভ্যান ও দমকল বাহিনী সাইরেন বাজিয়ে বাজিয়ে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়েছে।

পান্নার কৃষি আধিকারিক জানিয়েছেন, “পঙ্গপালরা গতকাল পান্না টাইগার রিজার্ভে বিশ্রাম নিয়েছে, সেখানে তাঁরা বনের গাছ খেয়েছে। এগুলি ফসলেরও ক্ষতি করেছে। ফসলের ক্ষতি থেকে এদের রোধের উপায় হল জোরে আওয়াজ করা বা কীটনাশক স্প্রে করা। “

উত্তর ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে এই পঙ্গপালের ঝাঁক ছড়িয়ে পড়ার পরে সরকার রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, পঞ্জাব, গুজরাত এবং মধ্যপ্রদেশে এই পতঙ্গ দমনে নানান কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ইতিমধ্যে অবশ্য পঙ্গপালের ব্যাপারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১০ জেলায় অ্যালার্ট জারি করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। উত্তরপ্রদেশ সরকারের এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “স্থানীয় স্তরের প্রতিনিধিদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদেরকে পঙ্গপাল মোকাবিলার জন্য রাসায়নিক নিয়ে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

রাজস্থানের ৩৩ টি জেলার মধ্যে ১৬ টি জেলা এই পঙ্গপালের কবলে পড়েছে। ফলে শস্য উৎপাদনে বিরাট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মধ্যপ্রদেশেও হানা দিয়েছে এই ক্ষতিকারক পতঙ্গরা। মধ্যপ্রদেশ কৃষি দফতর কৃষকদের জানিয়েছে, পঙ্গপাল হানা দিলে তাদের প্রবল শব্দ করে তাড়িয়ে দিতে। সেজন্য ড্রাম এমনকী থালাবাটি বাজানোর কথা বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই পতঙ্গদের যদি আটকানো না যায়, তবে দেশের শস্যভান্ডারে টানা পড়তে পারে। এই পতঙ্গরা সংখ্যায় প্রচুর হয়ে হামলা করায় এরা কোনও বড় শস্য খেতকে কয়েক ঘন্টার মধ্যে ফাকা করে দিতে পারে।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা