স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: গুণধর পুত্র বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল৷ তার আগে চলে প্রচণ্ড মারধর৷ তালা বন্ধ করে রেখেও দেয় যশোদারানি দাস নামে ওই বৃদ্ধাকে৷ প্রতিবেশীদের সাহায্যে ছাড়া পেয়ে সোজা পুলিশের কাছে যান অসহায় বৃদ্ধা৷

হয়ত ভেবেছিলেন পুলিশ পাশে দাঁড়াবে৷ সেখানেও হতাশ হতে হল যশোদারানিকে৷ তাঁর মনে হয়েছিল পুলিশের দায়িত্ব বেআইনি কাজে লিপ্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া। সেই অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়ে আইনের অধিকার তাঁদের পাইয়ে দিতে সাহায্য করা। কিন্তু বাস্তবে এসবই যে কথার কথা তা হাড়ে হাড়ে বুঝলেন বালুরঘাটের ওই বৃদ্ধা৷

শনিবার ছেলের হাতে মারধর খাওয়ার পর তিনি সোজা গিয়ে থানার দ্বারস্থ হয়ে রীতিমত লিখিত অভিযোগ করলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না বলে অভিযোগ। নিজের ভিটেমাটি থেকে পুত্র দ্বারা বিতাড়িত হয়ে ফুটপাতেই অসহায় ওই বৃদ্ধার রাত কাটছে।

পুলিশ কোনও ব্যবস্থা তো নেয়ইনি, উলটে অসহায় ওই বৃদ্ধা লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও পুলিশ তার কোন পালটা রসিদও দেয়নি। অবশেষে সাংবাদিকদের প্রচেষ্টায় অসহায় ওই মহিলাকে তাঁর অধিকার পাইয়ে দেওয়ার তৎপরতা শুরু করলো প্রোটেকশন দফতর৷

পুলিশের এমনই অমানবিকতার শিকার বালুরঘাটের চকভৃগু মন্ডলপাড়ার বাসিন্দা ষাটোর্দ্ধ বৃদ্ধা যশোদারানি। স্বামী রিতেশ দাসের মৃত্যুর পর বৃদ্ধ বয়সেও কারও দয়ায় না থেকে বালুরঘাটে বাজারের শাকসবজি বিক্রি করে নিজের সংসার চালান। বৃদ্ধার একমাত্র পুত্র সনাতন দাস মাঝে মধ্যেই টাকার দাবি করে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ।

গত শনিবারও নেশার টাকা চেয়ে মারধর করলে তিনি তা দিতে অস্বীকার করেন। অভিযোগ টাকা না পেয়ে তাঁকে প্রচন্ড ভাবে মারধরের পর ঘরের মধ্যে আটকে রেখে দেন। বৃদ্ধার কাতর আবেদনে সাড়া দিয়ে এক পথচারী ঘরের তালা ভেঙে বৃদ্ধাকে বের করলেও পুত্র সনাতন দাস তাঁকে আর বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছেন না। বালুরঘাট থানায় গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে লিখিত অভিযোগ করলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

এমনকি তাঁকে অভিযোগের প্রাপ্তিও পুলিশ দিতে রাজি হয়নি। এই অবস্থায় শনিবার থেকে তিনি বালুরঘাট বাজারের ফুটপাতেই রাত কাটাচ্ছেন। বৃদ্ধার এই করুন অবস্থায় তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন শহরের ইন্দ্রনীল রায় নামের এক সাংবাদিক। শুক্রবার তিনি ওই বৃদ্ধাকে সোজা জার্নালিস্টস ক্লাবে নিয়ে যান। এর পরেই জার্নালিস্টস ক্লাবের তরফে উদ্যোগ নিয়ে জেলাপ্রশাসনিক ভবনের প্রোটেকশন দফতরে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিন জেলা প্রটেকশন আধিকারিকের তৎপরতায় অবশেষে বালুরঘাট মহিলা থানার পুলিশ নতুন ভাবে অভিযোগ গ্রহণ করেছে। যদিও এই ঘটনায় বালুরঘাট থানার আইসি জয়ন্ত দত্ত জানিয়েছেন যে ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। এমনটা হওয়ার কথা নয়। সম্ভবত নির্যাতিতা ওই বৃদ্ধা প্রথমে মহিলা থানায় অভিযোগ না জানানোর কারণেই এমনটা ঘটে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।

এদিকে জেলা প্রোটেকশন আধিকারিক তরুণ সামন্ত জানিয়েছেন যে সাংবাদিকদের কাছ থেকে ঘটনাটি জানতে পেরেই পুলিশের সাথে তিনি যোগাযোগ করেন। সেই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে শীঘ্রই বৃদ্ধাকে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তাঁকে যাবতীয় সুরক্ষা প্রদানের পাশাপাশি তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।