স্টাফ রিপোর্টার, জয়নগর: আন্দোলনকারীদের জঙ্গিপনায় নিছকই ঘেরাও আন্দোলন রণক্ষেত্রর চেহারা নিল৷ পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়লেন শাসকদলের কর্মীরা৷ পুলিশের লাঠিচার্জের জবাবে ইঁট বৃষ্টি করলেন তাঁরা৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শূন্যে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে পুলিশ৷ সোমবার বিকেলে এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তর ২৪ পরগণার জয়নগরের বামনগাছি গ্রাম পঞ্চায়েত চত্বর৷ ঘটনার জেরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে৷ রাত পর্যন্ত এলাকায় পুলিশি টহল চলছে৷

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সিপিএম পরিচালিত বামনগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতে দুর্নীতি, স্বজনপোষণের অভিযোগে এদিন ডেপুটেশন দিতে এসেছিলেন তৃণমূল নেতা, কর্মীরা৷ পঞ্চায়েতের অদূরে মঞ্চ বেঁধে দুপুর থেকে শুরু হয় প্রতিবাদ সভা৷ সেখানে জালাময়ী ভাষণ দেন তৃণমূলের বারুইপুর ব্লক সভাপতি শ্যামসুন্দর চক্রবর্তী, স্থানীয় নেতা সুবল মণ্ডল ও দিলীপ হালদার৷ যদিও এদিন পঞ্চায়েত অফিসে আসেননি সিপিএমের প্রধান দিপালী হালদার ও উপপ্রধান হামিদ আলি মোল্লা৷ ছিলেন সিপিএম নেতা তথা জয়নগর এক পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি শাহালম লস্কর৷

গন্ডগোলের আশঙ্কায় আগে থেকেই প্রচুর সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল৷ সভা শেষে তৃণমূলের এক প্রতিনিধি দল পঞ্চায়েত অফিসে স্মারকলিপি জমা দিতে যান৷ প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, তখনই একদল আন্দোলনকারী হুড়মুড়িয়ে পঞ্চায়েত অফিসে ঢোকার চেষ্টা করেন৷ পুলিশ কর্মারা তাঁদের বাধা দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়৷ পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে৷ পাল্টা হিসেবে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইঁট বৃষ্টি শুরু করেন তৃণমূল কর্মীরা৷ বাধ্য হয়ে সেই সময় শূন্যে কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ৷ যদিও এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তৃণমূলের নেতারা৷ পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় একটি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে৷