মুম্বই : পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ দায়ের করেছেন মডেল তথা অভিনেত্রী কেট শর্মা৷ কেট শর্মা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমরা খুব ভালো বন্ধু ছিলাম কিন্তু এভাবে উনি আমাদের সম্পর্কটাকে নষ্ট করবেন ভাবতে পারিনি৷ এই ধরণের কিংবদন্তী মানুষের কাছ থেকে এটা আশাই করা যায় না৷” পাল্টা জবাবে সুভাষ ট্যুইট করে বলেছেন তিনি মন থেকে #MeToo মুভমেন্টকে সমর্থন করেন৷ নারীর ক্ষমতায়নে আরও সাহায্য করবে এই মুভমেন্ট৷

মহিলার ছবি প্রতীকী

কিন্তু পাশাপাশি তিনি এও বলেছেন যে এই মুভমেন্টের অপব্যবহার করছেন অনেকেই৷ পরিচালকের দাবি তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা এবং ধর্ষণের অভিযোগ মিথ্যে৷ যাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন তা কেবল মাত্র তাঁদের নিজেদের সুবিধার্থে৷ কেটের দাবি, তাঁকে ঠিক দেড় মাস আগে ৬ অগাস্ট নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠিয়েছিলেন সুভাষ৷ সেইখানে ছয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন৷ সকলের সামনে মাসাজ দিতে বলেন তিনি৷ কেট বাধ্য হয়ে কিছুক্ষণ মাসাজ দিয়ে বাথরুমে হাত ধুতে চলে যায়৷

আরও পড়ুন : জানেন এই মহিলার হাত ধরেই হয়েছিল #MeToo-র আত্মপ্রকাশ?

সেখান থেকে সুভাষ তাঁকে অন্য বেডরুমে নিয়ে গিয়ে জোরজবরদস্তি করতে থাকে৷ যা পর কেট সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চেষ্টা করে কিন্তু তাঁকে আটকে রেখে সুভাষ বলতে থাকেন যে কেট তাংর সঙ্গে রাত না কাটালে তিনি কেটকে লঞ্চ করবেন না৷ প্রসঙ্গত, দিন কতক আগে জনৈক এক মহিলা সুভাষ ঘাইকে নিয়ে ভয়ঙ্কর এক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন যা ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র৷ তাঁর দাবি, বেশ কয়েক বছর আগে যখন এই পরিচালকের সঙ্গে তিনি কাজ করছিলেন একটি ছবিতে, তখন সুভাষ ঘাই তাঁকে মাদক খাইয়ে ধর্ষণ করে৷

আরও পড়ুন : পুজোতে বাড়ি ফেরা হচ্ছে না এই নায়িকার..

প্রথমে পরিচালক ওই মহিলাকে মিউজিক রেকর্ডিংয়ে নিয়ে যায়, যেখানে অনেক রাত পর্যন্ত তাকে বসিয়ে রাখা হয় অন্যান্য পুরুষদের মাঝে৷ রেকর্ডিং শেষ হলে তিনি হঠাৎই তাঁর হাত ওই মহিলার থাইয়ে বোলাতে শুরু করেন, এবং বলেন, মহিলা ভালো কাজ করেছেন৷ এরপর স্ক্রিপ্ট সেশনের জন্য লোখন্ডওয়ালাতে তার একটি অ্যাপার্টমেন্টেও ডাকেন যেখানে তাঁর স্ত্রী থাকতেন না৷ স্ক্রিপ্ট সেশনের দিন সুভাষ ঘাই মহিলাকে নাকি বলতে শুরু করেন, এই ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁকে সবাই কত ভুল বোঝে, একমাত্র এই মহিলাই তাঁকে ভালোবাসে৷

আরও পড়ুন : সায়ন্তিকার পঞ্চমী-লুক, দেখুন ছবি

এরপর কান্নার ভান করেন এবং মহিলার কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়েন৷ এরপর উঠে বসে মহিলাকে জোর করে কিস করার চেষ্টা করেন৷ হতভম্ব হয়ে তখনই সুভাষের অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন ওই মহিলা৷ পরে মহিলাটির আর্থিক সমস্যার সুযোগ নিয়ে ধর্ষণ করে তাঁকে৷ এরপর কিছুদিন মহিলা কাজে না গেলে, সুভাষ তাকে জানায়, কাজ ছেড়ে দিলে তাকে তার প্রাপ্য পারিশ্রমিক দেওয়া হবে না৷ মহিলা জানান, এরপর ওই পরিচালকের সঙ্গে কখনও দেখা করার বা কথা বলার চেষ্টা করেননি তিনি৷ সুভাষের বিরুদ্ধে এই মহিলার ধর্ষণের অভিযোগের পরই কেট মুখ খোলেন এবং থানায় যান৷