মালদহঃ লকডাউনের মধ্যে মানুষের ভিড় ঠেকাতে গিয়ে একাংশ উত্তেজিত জনতার হাতে আক্রান্ত হতে হল পুলিশ। ভাঙচুর করা হল পুলিশের গাড়ি। আক্রান্ত হয়েছেন কর্তব্যরত এক এসআই সহ সহ চার জন সিভিক কর্মী। শনিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে রতুয়া থানার ভাদো গ্রাম পঞ্চায়েতের বোলদিয়াপুকুর এলাকায়। এই ঘটনায় আক্রান্ত পুলিশকর্মীদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সামসি গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। পুরো ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে চাঁচল মহকুমা পুলিশ ও প্রশাসন।

হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনত ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বোলদিয়াপুকুর মোড়ে দোকান পাট খোলা রয়েছে। মানুষও প্রয়োজন ছাড়াই জটলা করছে। এদিন খবর পেয়ে পুলিশ অফিসার দীপক মাহাতোর নেতৃত্বে পুলিশের একটি ভ্যান ঘটনাস্থলে যায়। চায়ের দোকানে বসে থাকা জনতাদের ছত্রভঙ্গ করতে হালকা লাঠি চার্জ করে পুলিশ। উল্টে শতাধিক জনতা পুলিশের ওপর ইট, লাঠি-সোটা নিয়ে আক্রমণ করে বলে অভিযোগ। এতেই জখম হন পুলিশকর্মীরা।

পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। চাঁচলের এসডিপিও সজল কান্তি বিশ্বাস জানিয়েছেন, এই ঘটনায় সামসী পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই দীপক মাহাতো গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁর মাথা ফেটে গিয়েছে। তাঁকে চিকিৎসার জন্য মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে চারজন সিভিকেরও গুরুতর চোট লেগেছে। সামসী গ্রামীন হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দেশজুড়ে লকডাউন চলছে। এরই মধ্যে পুলিশের কাছে খবর আসে বোলদিয়াপুকুর এলাকার মোরে প্রচুর মানুষ জমায়েত করেছে। চায়ের দোকানে আড্ডা চলছে। তাস খেলা চলছে। অবাঞ্ছিত ভাবে মানুষ রাস্তায় ঘোরাফেরা করছে। সেই পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেই পুলিশ এদিন ওই এলাকায় যায় মানুষকে সচেতন করতে। কিছু মানুষ কথা না শোনায় বাধ্য হয়ে পুলিশকে মৃদু লাঠিচার্জ করতে হয়। তারপরে গ্রামের একাংশ মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ইট-পাথর, লাঠি নিয়ে পাল্টা অভিযানকারী পুলিশ অফিসার কর্মীদের উপর আক্রমণ করে বলে অভিযোগ।

মারধর করা হয় পুলিশের ওই অফিসারসহ চার সিভিক ভলেন্টিয়ারকে। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের একটি জিপ গাড়ি ।কোনরকমে পুলিশ সেখান থেকে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন । পরে রতুয়া থানা এবং সামসি ফাঁড়ি থেকে বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে ওই এলাকায় টহলদাড়ি চালানো শুরু করে।

ততক্ষণে জনশূন্য হয়ে পড়ে ওই গ্রাম । মাইকিং করে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া হলে আইনত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি করোনা মোকাবিলায় লকডাউন পরিস্থিতিতে মানুষকে বাড়িতেই থাকার কথা ও ঘোষণা করা হয়। এদিকে এই ঘটনার পর মানুষের করোনা মোকাবেলায় সচেতনতা নিয়ে ফের একবার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে মালদহের পুলিশ সুপার অলক রাজোরিয়া।