ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া : আবারও বড়সড় সাফল্য পেল হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ। বিপুল পরিমাণ গাঁজা পাচারের সময় এসটিএফ কোলকাতা ও হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশের হাতে ধরা পড়ল ৪ দুষ্কৃতী।

সূত্রের খবর,৬ নং জাতীয় সড়কের পাঁচলা এলাকায় একটি ইনোভা ও একটি হুন্ডাই ভার্না গাড়িকে আটক করে পুলিশ।গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ১৫০ কেজি গাঁজা।গ্রেফতার করা হয় ৪ দুষ্কৃতীকে।পাশাপাশি আটক করা হয় গাড়ি দু’টিকে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্র মারফত খবর পেয়েই এসটিএফ ও হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশের এসওজির এই যৌথ অভিযান।জানা গেছে, ধৃত দুষ্কৃতীদের নাম প্রেম ডোরা,সুব্রত বিশ্বাস,মহাদেব সাহা ও অমৃত রায়।সুব্রত,মহাদেব ও অমৃত নদীয়ার নবদ্বীপ থানা এলাকার বাসিন্দা হলেও প্রেম ওডিশার বাসিন্দা। সপ্তাহ খানেক আগে এমনই ১৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ, তাও নীল বাতি জ্বলা গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বস্তা বস্তা গাঁজা।

ওইদিন ই এম বাইপাসের কামালগাজির কাছে একটি লাল গাড়ির মাথায় নীল রঙের আলো জ্বলছিল। সন্দেহ হয় পুলিশের। গাড়িটি চার দিক থেকে ঘিরে ফেলে পুলিশের টহলদারি ভ্যান। পুলিশকর্মীরা গাড়ি থেকে চালক ও সওয়ারিদের জামা ধরে টেনে নামান।

এর পরে গাড়ির ডিকি থেকে বেশ কয়েকটি বড় বড় বস্তা নামিয়ে তোলা হয় পুলিশের ভ্যানে। নীল বাতির গাড়ি থেকে ধরা লোকজনকে জিপে উঠিয়ে নেয় পুলিশ।

এরপর বারুইপুর পুলিশ জেলা সূত্রে খবর মেলে গত বুধবার ওড়িশার জলেশ্বর এলাকা থেকে পাচার হওয়া ১৫০ কেজি গাঁজা বারুইপুরের শঙ্করপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেই সময়ে ওই স্পেশ্যাল অপারেশন্স গ্রুপ ও নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে গাঁজা আটক করে।

পুলিশ সূত্রের খবর মেলে, কৌশিক সামন্ত নামে হুগলির পুরশুড়া থানার বাসিন্দা এক গাড়িচালক নিজের গাড়িতে গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া স্টিকার লাগিয়ে নীল বাতি জ্বেলে জলেশ্বর থেকে দেড়শো কেজি গাঁজা বারুইপুরের শঙ্করপুর এলাকায় পাচার করছিল। ওই গাড়ি থেকেই জাহাঙ্গির মোল্লা ও গফফর মোল্লা নামে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গাঁজা পাচার চক্রের দুই পাণ্ডাকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তকারীরা জানান, কৌশিক নিজের গাড়িতে সরকারি স্টিকার ও নীল রঙের বাতি জ্বেলে জলেশ্বর থেকে নিয়মিত বারুইপুরে গাঁজা পাচার করত। সরকারি স্টিকার, নীল বাতি থাকায় রাস্তায় পুলিশি তল্লাশির সামনে পড়তে হয় না।

তদন্তকারীরা আরও জানান, গত ছয় মাসে চার বার জলেশ্বর থেকে গাঁজা গাড়িতে চাপিয়ে নিয়ে এসে বারুইপুরে জাহাঙ্গির ও গফফরকে পৌঁছে দিয়েছে কৌশিক। তাদের থেকে জলেশ্বর থেকে বারিকুল গাঁজা পৌঁছনো বাবদ প্রতিবার ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে কৌশিক।

সপ্তাহখানেক আগে এক সূত্র মারফত পুলিশ জানতে পারে ওড়িশার সীমান্ত এলাকা জলেশ্বর থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় গাঁজা পাচার করা হচ্ছে। এর পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বারুইপুর থানার শঙ্করপুর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গির ও গফফরই পাচার চক্রের মূল পাণ্ডা। এর পরেই ওই দু`জনের উপরে নজরদারি শুরু হয়।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।