স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: স্বয়ং পুরপ্রধানের নাম ভাঁড়িয়ে প্রতারণার অভিযোগে ভিন রাজ্যে পালানোর আগেই এক দম্পতি-সহ তিন দুষ্কৃতিকে পাকড়াও করল পুলিশ৷ অভিযোগ, বারাকপুর প্রশাসনিক ভবনে ডেকে এক নির্মাণ সংস্থার তিন এজেন্টের কাছ থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা প্রতারণা করেছিল অভিযুক্তরা৷ নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ৷ ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার টিটাগড় থানা এলাকার৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত প্রতারকদের নাম সোমনাথ পাল, বাবুসোনা দাস ও পৃথা পাল৷ পৃথা ও সোমনাথ স্বামী-স্ত্রী৷ সদ্য তাঁদের বিয়ে হয়েছে৷ অন্য দুই প্রতারক সোমনাথ ও বাবুসোনা এর আগেও প্রতারণার অভিযোগে টিটাগড় থানার পুলিশের হাতে কয়েকবছর আগে গ্রেফতার হয়েছিল৷

আরও পড়ুন: রিষড়ার জুটমিলে হানা সিবিআইয়ের

ওই দুই প্রতারকের বিরুদ্ধে উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন থানায় প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে৷ এর আগেও বারাকপুর পুরসভার পুরপ্রধান উত্তম দাস এবং বারাকপুরের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শীলভদ্র দত্তের নাম ভাঙিয়ে সোমনাথ ও বাবুসোনা সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রতারণা করেছিল বলে অভিযোগ৷

বুধবারও বারাকপুর প্রশাসনিক ভবনে ডেকে এক নির্মাণ সংস্থার তিন এজেন্টের কাছ থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা প্রতারণা করে সোমনাথ ও বাবুসোনা৷ বুধবার বিকেলেই বারাকপুর পুরসভার পুরপ্রধান উত্তম দাসের নাম ভাঙিয়ে নকল জমিতে শপিং কমপ্লেক্স গড়ার কথা বলে আগরওয়াল নির্মাণ সংস্থার তিনজন এজেন্টের থেকে নগদ সাড়ে তিন লক্ষ টাকা প্রতারণার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের হয়েছিল টিটাগড় থানায়৷

আরও পড়ুন: হঠাৎ মালিরমাঠ পরিদর্শনে মুকুল-কৈলাশ

টিটাগড় থানার পুলিশ অভিযোগ দায়ের করতে আসা প্রতারিত দুষ্কৃতিদের ফাইল ছবি দেখিয়ে বুধবার সন্ধ্যার মধ্যেই এক প্রতারককে সনাক্ত করে ফেলেছিল৷ এরপর তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা ওই অভিযুক্ত প্রতারকের সূত্র ধরে এই প্রতারণা চক্রের খোঁজ শুরু করে৷ অভিযুক্ত প্রতারকরা বুধবার রাতেই রাজ্য ছেড়ে ভিন রাজ্যে পালানোর পরিকল্পনা করেছিল বলে পুলিশের দাবি৷

পুলিশ অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে মধ্যমগ্রাম এলাকা থেকে সোমনাথ, বাবুসোনা এবং সোমনাথের স্ত্রী পৃথাকে গ্রেফতার করে৷ টিটাগড় থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পৃথা গোটা ষড়যন্ত্রের ঘটনা জানত এবং অভিযুক্তরা প্রতারণার সাড়ে তিন লক্ষ টাকা পৃথার সঙ্গে বসেই ভাগ করেছিল৷ অভিযুক্তরা প্রতারণার পর বেশ কিছু নগদ টাকা খরচ করে ফেলেছিল৷ তাদের কাছ থেকে নগদ সাড়ে তিন লক্ষ টাকার মধ্যে ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে৷ ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে টিটাগড় থানার পুলিশ৷ প্রতারণা চক্রে আর কে বা কারা জড়িত রয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ৷

আরও পড়ুন: সমস্ত কসাই খানা বন্ধ রাখার নির্দেশ সরকারের