কলকাতা: ট্যুইটারে শুরু হয়েছিল যে যুদ্ধ, তা গড়াল লালবাজার। সাইবার ক্রাইম পুলিশের দ্বারস্থ টলিউডের সুপারস্টার দেব। অভিযোগ উইকিপিডিয়ায় তার আগামী ছবি ‘হইচই অ্যানলিমিটেড’-এর তথ্য সমগ্র কেউ এডিট করেছে। যেখানে লেখা হয়েছে, ‘হইচই অ্যানলিমিটেড’ পাকিস্তানি সিনেমা ‘জাওয়ানি ফের নেহি আনি’-এর রিমেক। কিন্তু অভিনেতার দাবি, এমনটা মোটেও নয়। তাই কে লিখল এমন কথা? সেই রহস্য সন্ধানে সাইবার পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন দেব।

এরপরই কলকাতার নামী চলচ্চিত্র সাংবাদিক ইন্দ্রনীল রায়কে ডেকে পাঠান লালবাজার সাইবার পুলিশ। চলে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ। কারন ইন্দ্রনীলই প্রথম তাঁর ব্যক্তিগত ট্যুইটারে, ট্যুইট করেন সংশয় প্রকাশ করেন, ‘হইচই অ্যানলিমিটেড’ পাকিস্তানি সিনেমা ‘জাওয়ানি ফের নেহি আনি’-এর রিমেক। এই দাবি নিয়ে, তিনি তাঁর বেশ কিছু ট্যুইট পাকিস্তানি প্রযোজক সংস্থান এআরওয়াই-কে ট্যাগ করেন। সঙ্গে দেবের বিরুদ্ধে কিছু ব্যাঙ্গাত্মক কথাও লেখেন। আর এইসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সাইবার পুলিশ তলব করেন সাংবাদিককে।

তাছাড়া ‘হইচই অ্যানলিমিটেড’-এর উইকিপিডিয়া এডিটিং নিয়ে দেব অনুরাগীরা আঙুল তুলেছেন ইন্দ্রনীলের ওপর। তাঁদের কথায় এই কাজ ইন্দ্রনীলই করেছেন। এমনকি দেবের এক ফ্যান সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে ইন্দ্রনীলকে ‘চোর’ বদনামও দিয়ছেন। যদিও ইন্দ্রনীল বার বার জানিয়েছে এই কাজ তাঁর নয়। নিজ পক্ষের সমর্থনে তিনি বলেন, ” উইকিপিডিয়ায় এডিটিংয়ের জন্য সেখানে অ্যাকাউন্ট থাকতে হয়। যা তাঁর নেই। তাছাড়া যে কাম্পিউটার থেকে এডিটিং করা হয়েছে, তার আইপি অ্যাডড্রেস বিজয়ওয়াড়ার কোনও সার্ভারের। সুতরাং তাঁর এটা করার কোনও প্রশ্নই নেই।”

আরও পড়ুন: দেবের ‘হইচই’তে সামিল সায়ন্তিকা, দেখুন ভিডিও

তবে ইন্দ্রনীলের ট্যুইট থেকে তাঁর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে নেটদুনিয়া। অনেকে মনে করছেন পুলিশে এফআরআর দায়ের করাটা দেবের বাড়াবাড়ি। নায়ক সাংবাদিক সম্মেলন করে বিষয়টা খোলসা করতে পারতেন। অথবা ইন্দ্রনীলের সঙ্গে কথা বলেও সমস্যার সমাধান হতে পারত। কেউ কেউ আবার এই ঘটনাকে একজন সাংবাদিকের স্বাধিনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলছেন। অনেকে আবার এক ধাপ এগিয়ে বলছেন, দেব রাজনৈতিক ক্ষমতা দেখাচ্ছেন।

দেখে নিন ‘হইচই অ্যানলিমিটেড’-এর ট্রেলার:

ইন্দ্রনীল অবশ্য তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছেন, “সাংবাদিক হিসাবে অনেক খবর করি। হয়তো সবসময় খবর কনর্ফম না করেই। সেটা পরেও হতে পারত। তা বলে একেবারে এফআইআর। তাহলে কি শুধু প্রশংসায় শুনতে চান দেব ও তাঁর গুনমুগ্ধরা”। একই সঙ্গে তিনি আরও জানান, ” গোটা ঘটনায় তাঁর বাবা-মা খুবই আতঙ্কে রয়েছে”। তার তাইতো বিপদের এমন দিনে ট্যুইটারে বিপদতারিনী মহামায়ার ছবি পোস্ট করেছেন তিনি।

যদিও উল্টোদিকে সাংবাদিক ইন্দ্রনীলের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন দেব শিবির। তাঁদের প্রশ্ন, ভেঙ্কটেশ ফিল্মসও তো অনেক সিনেমার রিকেম করে থাকে। কই তাঁদের বেলায় তো এতোটা স্বক্রিয় হতে দেখা যায় না ইন্দ্রনীলকে? তাহলে কি শ্রীকান্ত মেহেতার সঙ্গে ভাল সম্পর্কের জেরেই তাঁদের বিরুদ্ধে কিছু লেখেন না ইন্দ্রনীল!

বহু বছর ধরে টলিউড প্রযোজক শ্রীকান্ত মেহেতার সঙ্গে ইন্দ্রনীলের বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক। প্রায়শই তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়। তাই এই ঘটনাকে অনেকে সন্দেহের চোখেও দেখেছেন।

তবে এসবে কান দিচ্ছেন না প্রযোজক অভিনেতা দেব। তাঁর সাফ কথায়, ” বিষয়টা সম্মানের। আজ আমি যতটুকু সম্মায় পাই, তা কষ্ঠ করে অর্জন করতে হয়েছে। তাই কে বা কারা আমার সম্মান নিয়ে খেলা করছে তা আমি জানতে চাই। তাছাড়া সত্যি জানাটাও সমান ভাবে জরুরি”। একই সঙ্গে অভিনেতার আরও বলেন, ” এটা সংবাদপত্রের স্বাধিনতায় হস্তক্ষেপ নয়। ওই ব্যক্তিটি, তাঁর নিজস্ব ট্যুইটারে আমার সম্মানহানি করছিলেন। তাই আমি আইনি পরামর্শ চেয়েছি। তাছাড়া সংবাদপত্রের পাতায় লিখলে, ইজয়েন্ডার পাঠান যায়। কিন্তু এখানে কোথায় বলব? তাই আইনি সহায়তা ছাড়া উপায়ও কি?

কিন্তু দেবের এই সিদ্ধান্তে টলিপাড়ার অনেকেই বাঁকা সুরে কথা বলছেন। তাঁরা বলছেন, এ এক চরম অসহিষ্ণু সময়। এমন একটা সময় এল, পরিচিতকে জব্দ করতে পুলিশের দরকার হচ্ছে! পাল্টা যুক্তি, এক পরিচিত যদিও সঠিক তথ্য না যেনে সিনেমার মুক্তি আগে এক প্রযোজককে এমন করে সমস্যায় ফেলতে চান তাহলে তাকে কি বলবেন?

দেখে নিন ‘জাওয়ানি ফির নেহি আনি’ ট্রেলার:

এমন করেই চলছে পক্ষ-বিপক্ষের সমর্থনে নানান যুক্তি-তর্ক। আর এসবের মাঝে আতঙ্কে রয়েছেন নায়ক। আর কেনই বা থকবেন না! সাংবাদিক ইন্দ্রনীল যেভাবে তাঁর একের পর এক ট্যুইটে পাকিস্তানি প্রযোজক সংস্থান এআরওয়াইকে ট্যাগ করেছেন। তাতে এই সংস্থান ইন্দ্রনীলের অনুমানের ভিত্তিতে আইনি নোটিশ পাঠায়! তাহলে তো আটকে যাবে ছবির মুক্তি! ক্ষতি হবে কোটি কোটি টাকার।

আরও পড়ুন: রাজা না জয়, কে আসল ‘ভিলেন’?

তাই প্রশ্ন উঠছে কেন এমনটা করলেন সাংবাদিক ইন্দ্রনীল রায়। যদিও ইতিহাস বলছে এর আগেও এমন কাজ বহুবার করতে দেখা গিয়েছে সাংবাদিককে। দেব বা জিৎ যাঁর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে ভাঙন ধরেছে, তাঁদের পেছনে এমন করেই পড়েছিলেন তিনি।

তবে কুচক্র, সমালোচনা, ব্যঙ্গের টলিপাড়ায় চলতেই থাকে, কিন্তু পুলিশ এই প্রথম। আর গোটা এই নিন্দনীয় ঘটনায় ইন্দ্রনীল রায়, যে দৈনিকের সাংবাদিক তাঁরা জানিয়েছেন, “ইন্দ্রনীল এই খবর তাঁর ব্যক্তিগত ট্যুইটারে করেছেন। তিনি নিজে লিখিত ভাবে তাঁর সব মতামত ও খবরের দায় নিয়েছেন। তাই এই ঘটনায় তাঁদের সংবাদপত্রের কোনও দায় নেই।”