সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : সোশ্যাল মাধ্যমে এখন হাওড়ার টিকিয়াপাড়া নিয়ে হইহল্লা। একাধিক ভাইরাল পোস্টে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে রাজ্য সরকারের বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ ‘ভালোবাসা’ নিয়ে। বিরোধী দল বিজেপি তো স্বাভাবিক নিয়মেই হইহই করে লেগে পড়েছে এই ঘটনা নিয়ে। বাবুল সুপ্রিয় যেমন বলে দিয়েছেন ‘দিদির ভোটব্যাঙ্ক’ রাজনীতির ফল টিকিয়াপাড়ার ঘটনা। দিলীপ ঘোষও একইভাবে সুর চড়িয়েছেন। কিন্তু ভালো করে যদি একটু চোখ ঘোরানো যায় বা শুধুমাত্র সম্প্রদায় ভিত্তিক ঘটনাকে দেখা হয় তাহলে দেখা যাবে শুধু একটি সম্প্রদায় নয় সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ মাঝে মাঝেই সবকিছু ভুলে ভয়ঙ্কর করোনা ঠেকাতে নিয়মকে লঙ্ঘন করে পুলিশের উপর হামলা চালাচ্ছে।

একে একে দেখা যাক। ঘটনা ১১ এপ্রিলের, লকডাউন ভাঙায় বাধা দিয়েছিল পুলিশ। তার জেরে তলোয়ারের কোপে পুলিশ অফিসারের হাত কেটে দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনা ঘটেছিল পঞ্জাবের পটিয়ালায় সব্জি মান্ডিতে। হামলার জেরে জখম হয়েছিল আরও দুই পুলিশকর্মী। যে পুলিশ কর্মীর হাতে তলোয়ারের কোপ বসায় দুষ্কৃতীরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তিনি সুস্থ হন। দুষ্কৃতীদের সকলকে গ্রেফতারও করা হয়। একটু পিছনে যাওয়া যাক। ২৫ মার্চ, ‘লকডাউনের মধ্যে কোথায় যাচ্ছেন?’ এই প্রশ্ন করায় পুলিশের গায়ে মুখের লালা এবং লিপস্টিক লাগিয়ে দিলেন এক তরুণী। পুলিশ ওই তরুণী এবং তাঁর সঙ্গীকে আটক করে। ঘটনাটি ঘটেছিল সল্টলেকের পিএনবি মোড়ে।

১৯ এপ্রিল, ২০২০। মাস্ক পড়তে বলার জের। হাওড়ায় সিভিক ভলেন্টিয়ারকে মারধর করে এক মহিলা। ওইদিন কালিবাবুর বাজারে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করছিল পুলিশ। এক মহিলা, মাস্ক না পরে বাজারে আসেন বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। পুলিশ তাঁর কাছে জানতে চায়, কেন তিনি মাস্ক পরেননি? এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ওই মহিলার বচসা শুরু হয়। সেইসময় এক সিভিক ভলেন্টিয়ারকে চড় মারেন ওই মহিলা। ঘটনার পর মহিলাকে আটক করে পুলিশ। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে এই সমস্ত ঘটনায় জড়িত একজন কিংবা বড় জোর জনা দুয়েক। একটা গোটা এলাকার মানুষ এমন কোথায় করছেন? এই তো কয়েকদিন আগেই, রেশন পাচ্ছেন না , রেশন নিতে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। এইসব নানা হাবিজাবি অভিযোগ তুলে পুলিশের উপর চরাও হয়ে মারধোর করে গ্রামবাসী। এমন ঘটনাও দেখা গিয়েছে। উপরোক্ত ঘটনাগুলি ঘটিয়েছে এই দেশেরই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। এবং মঙ্গলবারে টিকিয়াপাড়ার ন্যক্কারজনক ঘটনা।

পুলিশের উপর এত রাগ মানুষের কোথায় তা বোঝা দায়। অথচ কি না করছে পুলিশ। রক্তদান, মাস্ক দান, গান গাওয়া, রাস্তায় ছবি আঁকা, অভিনয় বলে বুঝিয়ে মানুষের জীবন বাঁচাতে সর্বত্র লড়ছে পুলিশ অথচ জাতি , ধর্ম নির্বিশেষে পুলিশকে ধরে পেটাচ্ছে, থুতু দিচ্ছে, আঁচড় কেটে দিচ্ছে। কত সহজেই উর্দির গায়ে হাত চলে যাচ্ছে। সাহস চরমে পৌঁছে যাচ্ছে।

সমস্যা কি শুধুই ধর্মের? না কি মানসিকতার ?

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব