স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: বাম-কংগ্রেসের যৌথ শান্তি মিছিলে পুলিশের বাধাদান ঘিরে ধুন্ধুমার কাঁকিনাড়ায়৷ পুলিশের বাধা পেয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন বাম ও কংগ্রেস কর্মীরা ৷ ভাঙা হল একের পর এক ব্যারিকেড৷ রাস্তায় বসে পড়লেন বিক্ষোভকারীরা৷ শান্তির মিছিল ঘিরে ফের নতুন করে উত্তপ্ত হল ভাটপাড়া৷মিছিলে নেতৃত্বে ছিলেন, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র৷

পুলিশ-জনতার দফায় দফায় সংঘর্ষে প্রায় একসপ্তাহ ধরে উত্তপ্ত উত্তর ২৪ পরগণার ভাটাপাড়া অঞ্চল৷ আপাতত সংঘর্ষ বন্ধ হলেও এলাকায় আবহাওয়া থমথমে৷ এলাকায় শান্তি ফেরাতে আজ, মঙ্গলবার ভাটপাড়ায় যৌথ মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস ও সিপিএম৷ কাঁকিনাড়া স্টেশনে জমায়েত হয়ে সেখান থেকে মিছিল করে জগদ্দল ও ভাটপাড়া থানায় ডেপুটেশন দেওয়ার কথা ছিল বাম ও কংগ্রেস কর্মীদের৷কিন্তু এদিন মিছিল শুরু হতেই পুলিশ তা আটকে দেয়৷

পুলিশের বক্তব্য, ভাটপাড়ায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে৷ আর ১৪৪ জারি থাকলে মিছিল করা যায় না৷ এরপরই পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন দু-দলের কর্মী-সমর্থকরা৷ শুরু হয় ধস্তাধস্তি৷ রাস্তার মাঝেই বসে পড়েন বাম ও কংগ্রেসের কর্মীরা৷উল্লেখ্য, এদিন দলীয় পতাকা ছাড়াই মিছিল করে বাম-কংগ্রেস৷

এরপর ভাটপাড়ার পুরসভার সামনেও আরও একবার মিছিল আটকানো হয়। পুলিশ কমিশনার বিমান বসু, সোমেন মিত্রদের সঙ্গে কথা বলেন। যদিও পুলিশি বাধা পেরিয়েই মিছিল এগিয়ে চলে। এরপর থানায় স্মারকলিপি দেয় বাম-কংগ্রেস প্রতিনিধি দল।

এদিন মিছিলে সোমেন মিত্র বলেন, “সব শান্তিকামী মানুষ একসঙ্গে পা মিলিয়েছে। পথই পথ দেখাবে। ”বিমান বসু বলেন, “শান্তি মিছিলে রং মুছে লোক এসেছে। শান্তি মিছিলে সবাই আসতে পারে। তৃণমূলই রাজ্যে বিজেপিকে ডেকে এনেছে। এখন দানবীয় শক্তিরূপে দেখা দিয়েছে বিজেপি। সঙ্গত দিচ্ছে তৃণমূল। এসবের মোকাবিলায় মিছিল হবে। মানুষ এরই প্রতিবাদ করছে। শান্তি মিছিল বার বার হবে।”

উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনে এই দুই দলই বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে৷ সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েই ফের কাছাকাছি আসার চেষ্টা করছে পুরোনো ‘জোটবন্ধু’ বাম-কংগ্রেস৷রাজনৈতিক মহল মনে করছে, পুরসভা ও বিধানসভা ভোটের আগে ভাটপাড়ার মতো গরমাগরম ইস্যুকে সামনে রেখেই নিজেদের ‘বন্ধুত্ব’টা ফের ঝালিয়ে নিতে চাইছে তারা৷