বর্ধমান: এরকম উগ্র মূর্তি দেখা তো দূরের কথা পথ চলতি কেউই ভাবতে পারছেন না। আর পুলিশ কর্মী একেবারে হুঙ্কার ছেড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ন টোটো গাড়ির উপরে। প্রবল শক্তিতে হেডলাইট ভেঙে দিচ্ছেন। সকাল থেকে বর্ধমান শহরের ভিতর জি টি রোডে এমনই পুলিশি ভূমিকা নিয়ে তৈরি হচ্ছে পক্ষে-বিপক্ষে মতামত।

জানা গিয়েছে, আদালত ও প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বর্ধমানে জিটি রোড দিয়ে ব্যাটারী চালিত ইকো-রিক্সা চলাচল বন্ধ হয়নি। ফলে অভিযানে নামে বর্ধমান পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। শহরের জিটিরোডের পার্কাস রোড মোড়, বাদামতলা মোড়, কার্জন গেট, কালীবাজার মোড়, বীরহাটা প্রভৃতি জায়গায় অভিযান চালানো হয়।

এর পাশাপাশি বিসিরোডে অবৈধ পার্কিং-এর জন্য প্রায় ৩০টি মোটরবাইক আটক করে পুলিশ। নিয়ম অগ্রাহ্য করে জিটিরোড দিয়ে ইকো-রিক্সা চালানোয় এদিন বেশ কয়েকটি ইকো-রিক্সার হেড লইট ভেঙে দেন বর্ধমান শহরের ট্রাফিক ওসি চিন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইকো-রিক্সা চালকদের জিটিরোড দিয়ে টোটো চালানো বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ না মেনেই বেপরোয়াভা্বে চলছে ইকো-রিক্সাগুলি।

পূর্ব বর্ধমান সদর ইকো রিক্সা পুলারস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অভিজিত নন্দী জানিয়েছেন, প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে জিটি রোড এবং জাতীয় সড়কে ব্যাটারি ইকো-রিক্সা চলাচল করবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়। তাঁরা মেনেও নিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ এদিন ব্যাটারী ইকো-রিক্সাগুলিকে যে ভাঙচুর করেছে তার বিরুদ্ধে তাঁরা সোমবার জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিচ্ছেন।

জেলা আইএনটিটিইউসি সভাপতি তথা পূর্ব বর্ধমান সদর ইকো রিক্সা পুলারস ইউনিয়নের সভাপতি ইফতিকার আহমেদ জানিয়েছেন, বর্ধমান শহরের প্রায় ৩ হাজার টোটো সরকারী নিয়ম মেনেই চলছে। এর পাশাপাশি আরও প্রায় তিনহাজার ব্যাটারি ইকো-রিক্সা এই শহরে চলছে। কিন্তু আইনভাঙার ক্ষেত্রে পুলিশ দুটো ক্ষেত্রেই একই ভূমিকা নিচ্ছে, এটা ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন ইফতিকার আহমেদ।