ঢাকা: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের প্রেমতলায় জঙ্গি আস্তানায় চালানো অপারেশন অ্যাসল্ট সিক্সটিনে নিহত চার জঙ্গি৷ পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহত জঙ্গিদের মধ্যে এক মহিলা ও তিনজন পুরুষ। তার মধ্যে দুইজনের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে অভিযান শুরু হয় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ছায়ানীড় বাড়িতে৷ মৃত জঙ্গিদের দু’জনের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে৷ এদের মধ্যে একজন মহিলা জঙ্গি৷

জানা গিয়েছে, অভিযান শুরুর সময়ে গ্রেনেড হামলা করেছিল জঙ্গিরা।  হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দুই সোয়াট সদস্য। তাদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বুধবার ভোর রাত পৌনে একটা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিল কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ। তবে দিনের আলো ফোটার আগে অভিযান চালানোর সম্ভাবনা কম ছিল। এমনই জানিয়েছিলেন বাংলাদেশে জঙ্গি দমন শাখার এক অফিসার।

দুটি জঙ্গি ডেরা৷ সেই ডেরা ঘিরে সন্ত্রাস দমন বাহিনীর অভিযান ও গ্রেনেড বিস্ফোরণে উত্তপ্ত বাংলাদেশের বন্দরনগরী চট্টগ্রাম৷ একটি জঙ্গি ডেরা সীতাকুণ্ডের সাধন ভিলা৷ সেখান থেকে জঙ্গি দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ তাদের নাম জসিমউদ্দিন ও আর্জিনা। তাদের সঙ্গে দু মাস বয়সী শিশুপুত্র রয়েছে। আর্জিনার কোমরে বোমা বাঁধা ছিল। জানিয়েছে পুলিশ৷

অপর ঘটনার কেন্দ্র সাধন ভিলা থেকে কয়েকশ গজ দূরে নামার বাজার এলাকা৷এখানে একটি বাড়িতে আরও জঙ্গিরা লুকিয়ে আছে৷ তাদের সঙ্গে রয়েছে প্রচুর বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র৷ সেখান থেকেই গ্রেনেড চার্জ করা হয়েছে৷ বিস্ফোরণ জখম হয়েছেন এক পুলিশ অফিসার৷ বাড়ি ঘিরে নিয়ে পাল্টা অভিযানের প্রস্তুতি চলছে৷ এলাকায় ছড়িয়েছে প্রবল আতঙ্ক৷

চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা জানিয়েছেন, গোপন সুত্রে এই আস্তানা দুটির খবর পাওয়ার পর বুধবার দুপরের দিকে অভিযান শুরু হয়।  দুটি জঙ্গি আস্তানার ভিতরে অস্ত্র-গুলি, হ্যান্ড গ্রেনেড ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে৷

ঘটনার কেন্দ্রে দুটি জঙ্গি ডেরা৷ একটি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকার আমিরাবাদের সাধন কুঠি৷ এই বাড়ির মালিক সুভাষ দাস৷  অন্য জঙ্গি ডেরাটি হল নামার বাজারের সুরেশ মিস্ত্রির বাড়ি৷

জঙ্গি ডেরা সাধন কুঠি:

এই বাড়ির মালিক সুভাষ দাস জানিয়েছেন, গত ৪ মার্চের ঘটনা৷ এক ব্যক্তি নিজেকে জসিমউদ্দিন পরিচয় দিয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল৷ সঙ্গে ছিল তার স্ত্রী, সন্তান ও দুই শ্যালক৷  ভাড়া দেওয়ার সময় জসিমের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা রেখেছিল৷

ভাড়া নেওয়ার পর থেকে বাড়ির দরজা জানালা সব সময় বন্ধ রাখত জসিম। এতেই সন্দেহ দেখা দিলে বাড়িওয়ালা সুভাষ দাস ওই পরিচয়পত্র নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, সেটি ভুয়ো পরিচয়পত্র।

মঙ্গলবার রাতে জোর করে তিনি জসিমের বাসায় ঢুকে দেখতে পান, সেখানে প্রচুর তার, সার্কিট। সন্দেহ আরও পোক্ত হয় তাঁর৷ পরে সুভাষবাবু  পরিচিত এক বিদ্যুৎ মিস্ত্রিকে সেই সার্কিটের কথা বলেন৷ মিস্ত্রি জানায় সেটি আসলে টাইমার। ভয়ে সুভাষবাবু পুলিশকে খবর দেন। সব বুঝে বুধবার সকাল থেকে অভিযান শুরু করে পুলিশ৷

বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় পুলিশ বাহিনীকে বাধা দেয় জসিম ও আর্জিনা। ধস্তাধস্তির সময়ে আর্জিনা বিবির কোমরে বোমা বাঁধা রয়েছে তা বুঝতে পারা যায়৷  যান। কোনওরকমে তাদের গ্রেফতার করা হয়৷  সাধন ভিলা থেকে প্রচুর পরিমাণে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, গ্রেনেড ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে৷
দ্বিতীয় জঙ্গি ডেরা:

আমিরাবাদের জঙ্গি ডেরায় অভিযান চলাকালীন গোপন সূত্রে খবর মেলে আরও একটি জঙ্গি আস্তানার৷ এটি স্থানীয় নামার বাজার এলাকায় সুরেশ মিস্ত্রির বাড়ি৷ সেখানেই ভুয়ো পরিচয় দিয়ে থাকছিল জঙ্গিরা৷
সেখানে অভিযান শুরু হতেই গ্রেনেড ছোড়া হয়৷ তারপরেই শুরু হয় গুলির লড়াই৷