স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: ভিনরাজ্যে ভালো কাজ পাইয়ে দেবার টোপ দিয়ে বাংলাদেশ থেকে আনা দুই যুবতী কে ভারত হয়ে ভিন রাজ্যে পাচার করার আগে পুলিশের হাতে ধরা পড়ল পাচারকারী । পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই পাচারকারী নির্মল সুতার(৫৯) এবং শিবু রায়(৫০)। জানা গিয়েছে, ধৃত নির্মলের বাড়ি গাইঘাটা থানার অন্তর্গত কালোপুর এলাকাতে। শিবু রায়ের বাড়ি বনগাঁ থানার অন্তর্গত গান্ধীপল্লি এলাকাতে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, ধৃত ওই দুই ব্যক্তিকে হাবরা থানার অন্তর্গত চোংদা এলাকায় যশোর রোডের ওপর একটি মিষ্টির দোকানে বসে থাকতে দেখা যায়৷ সঙ্গে ছিল ওই দুই যুবতী৷ স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হওয়ায় তারা ওই দুই যুবতীকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকেন। তাঁদের মুখ থেকেই বাসিন্দারা যাবতীয় ঘটনা জানতে পারেন।

আরও পড়ুন : ক্লাসে ছাত্রীকে চড় মেরে কানের পর্দা ফাটিয়ে দিল শিক্ষক

যদিও তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ওই দুই যুবক ততক্ষনে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে তাতে শেষ রক্ষা হয়নি কারোর। দৌড়ে ধৃত যুবকদের ধরে ফেলে স্থানীয় জনতা। এরপরই শুরু হয় মারধোর, ভয় পেয়ে একে একে সমস্ত সত্যি ঘটনা বেরিয়ে আসে তাঁদের মুখ থেকে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ‘ওই যুবতীরা জানিয়েছে, তাঁদেরকে বাংলাদেশ থেকে কাঁটাতার এবং নদী পেরিয়ে অবৈধ ভাবে এই দেশে নিয়ে আসা হয়েছে৷ শুধু তাই নয় ভিন রাজ্যে বেশি টাকায় কাজ পাইয়ে দেবার টোপও দেওয়া হয়েছিল তাঁদের। জানা গিয়েছে পাচার হওয়া ওই দুই যুবতীর নাম বীণা আক্তার(২৫) এবং মোছাম্মদ চাঁদনী (১৯)।

আরও পড়ুন : ‘মমতার জন্য বিজেপির দরজা খোলা’, বিধানসভায় এসে বললেন মুকুল

জানা গিয়েছে বীণার বাড়ি ঢাকা- ময়মনসিংয়ের উদাইল বর্ধনী এলাকায় এবং চাঁদনীর বাড়ি ঢাকা- ময়মনসিং এর বানাইল এলাকায়। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত দুই ব্যক্তিই জেরায় তাঁদের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছে। ধৃতরা জানায়, বাংলাদেশ থেকে পাচার চক্রের এক পাণ্ডা তাঁদেরকে অবৈধ ভাবে কাঁটাতারের বেড়া টপকে নদী পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে সাহায্য করেছে। এরপর সীমান্ত লাগোয়া আরেক পাচারকারির হাত ধরে ওই দুই যুবতীদের নিয়ে ভিন রাজ্যে পাচারের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন তারা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই পাচারকারীকে শুক্রবার বারাসাত আদালতে তোলা হয়৷ অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অপরাধে ওই দুই যুবতীকেও শুক্রবার বারাসাত আদালতে তোলা হয়৷ তবে, পাচারকারীদের জেরা করে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোটা ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। পাশাপাশি এই পাচার চক্রের মূল মাথা কে, তাঁর খোঁজেও তল্লাশি চালাছে পুলিশ।