কলকাতা: করোনা আতঙ্কে চলছে লকডাউন৷ জারি রয়েছে মহামারি আইন৷ নিয়ম লঙ্ঘন করায় কলকাতাসহ রাজ্যজুড়ে গ্রেফতার হয়েছে কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ৷ এবার গ্রেফতার এক পুলিশ কর্মী৷

নিয়ম লঙ্ঘন করলে যে পুলিশেরও ছাড় নেই, বুঝিয়ে দিল বিধাননগর কমিশনারেট৷ গ্রেফতার করা হয়েছে এক পুলিশ কর্মীকে৷ ধৃত পুলিশকর্মীর নাম টি কে বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি বসিরহাট জেলা পুলিশে কর্মরত বলে জানিয়েছে বিধাননগর পুলিশ৷

লকডাউনের মধ্যে বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটাল এক পুলিশকর্মী। ঘটনাটি ঘটেছে বিধাননগর পূর্ব থানা এলাকার বিজি ব্লকে৷ অভিযোগ,লকডাউনের নিয়ম লঙ্ঘন করে বিনা কারণে ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসেছেন৷ শুধু তাই নয় বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন৷

অভিযোগ, সল্টলেকের বিজি ব্লকের একটি বাড়ির দরজায় ধাক্কা মারে ওই পুলিশকর্মীর গাড়ি। বাড়ির লোকজন বাইরে বেরিয়ে দেখেন, মূল দরজা ও পাঁচিল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে৷ পুলিশ এসে গাড়িচালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে পাঠানো হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়৷ গাড়িটিও আটক করা হয়েছে৷ এছাড়া গত ৫ এপ্রিল রাতে শব্দ বাজি ফাটানোর পর বিভিন্ন জায়গায় হানা দিয়ে ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট৷

অন্যদিকে কলকাতায় গ্রেফতারের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে৷ গত ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার করা হয়েছে ১৯৭ জনকে৷ লকডাউন লঙ্ঘন করায় ১৯৭ জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ৷ এছাড়া ৩৭টি গাড়ি আটক করা হয়েছে৷

সম্প্রতি জীবাণুমুক্ত করা হল রাজারহাটের কোয়ারেন্টাইন সেন্টার৷এই মুহূর্তে রাজারহাটের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে ভর্তি রয়েছেন ১৫০ জন৷ দমকল সূত্রে খবর, রাজারহাটের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে দমকলের মাধ্যমে জীবাণুনাশক ছড়ানো হচ্ছে৷ প্রত্যেকটি ঘরে স্যানিটাইজ করার কাজ শুরু হয়েছে৷ ধাপে ধাপে এই কাজ শেষ করা হবে৷

এছাড়া বিধাননগর পুরসভা সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে পুরসভার পক্ষ থেকে দুটো Sprinkler যুক্ত গাড়ি ১৫ দিনের জন‍্য ভাড়া নেওয়া হয়েছে৷ যেটা দিনে দু’বার সল্টলেক ও রাজারহাটে র প্রধান জনবহুল এলাকা ও প্রধান সড়কগুলোতে জীবানুমুক্ত করার কাজে নিযুক্ত করা হয়েছে। এই গাড়ি গুলো আগামী ১৪ই এপ্রিল অবধি নিযুক্ত থাকবে।

এছাড়া আরও বেশী করে এই কাজ সংগঠিত করার জন‍্য প্রতি ওয়ার্ড পিছু একটা করে Spray machine কেনা হবে। এই মেশিন পেট্রোল দ্বারা চালিত। পেট্রোলের সংস্থান কাউন্সিলররা করবেন। এই মেশিনগুলো দিয়ে জীবানুনাশক মিশ্রণ ছড়াতে হবে। পুরসভার পক্ষ থেকে আপাতত ২৫০০ লিটার এই জীবানুনাশক কেমিক্যাল কেনা হবে। ( ওয়ার্ড পিছু ৫০ লিটার হিসেবে) । এই কেমিক্যাল জলের সঙ্গে ১:৪০ অনুপাতে মেশাতে হবে।

এর আগে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে চিনের উহান শহরের দেখানো পথেই প্রথমে হেঁটেছিল কলকাতা পুরসভা। পরে সে পথেই হাঁটে বিধাননগর পুরসভাও। সম্প্রতি বিধাননগর পুরভবন এবং সল্টলেকের বিভিন্ন রাস্তা জীবাণু মুক্ত করা হয়। জীবাণুনাশক রাসায়নিক জলে মিশিয়ে তা বিভিন্ন জায়গায় ছড়ানো হয়। এই কাজের তত্ত্বাবধানে ছিলেন মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী ও অন্যান্য আধিকারিকরা। বিধাননগর পুরসভার মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী জানান, প্রথম পর্যায়ে বিধাননগর পুরভবন ও বিভিন্ন রাস্তা জীবাণু মুক্ত করা হয়েছে।