স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: পুলিশের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখার অভিযোগে শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করা হয় বর্ধমান জেলা যুব মোর্চার প্রাক্তন জেলা সভাপতি শ্যামল রায়কে। শনিবার তাকে আদালতে পেশ করল পুলিশ। যদিও ধৃতের পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজত চান তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা।  ভারপ্রাপ্ত সিজেএম রাজর্ষি মুখোপাধ্যায় অভিযুক্তের এক দিনের পুলিশী হেফাজত মঞ্জুর করেছেন।

এদিন, শনিবার শ্যামলকে পুলিশী হেফাজতে নেবার জন্য যে আবেদন পুলিশ জানায়, তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। শ্যামল রায়ের আইনজীবী কমল দত্ত জানিয়েছেন, আদালতে পুলিশ শ্যামলের কাছ থেকে বোমা উদ্ধারের জন্য তাকে পুলিশী হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে তার বিরুদ্ধে এই ধরণের কোনও মামলায় দায়ের হয়নি।

উল্লেখ্য, শ্যামল রায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ উস্কানিমূলক ভাষণ দেওয়া, সরকারি কর্মীর উপর হামলা, মারধর, খুনের চেষ্টা, ভাঙচুর এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্টের ধারায় মামলা করেছে। আদালতে পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার বর্ধমান টাউন হলের সভায় শ্যামল পুলিশকে মারধর করা এবং পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেবার নির্দেশ দেন দলীয় কর্মীদের।

অভিযোগ, তার এই বক্তব্যের পরই বর্ধমানের তিনকোনিয়া গুডস শেড রোড এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে হামলা চালানো হয়। সাব-ইনসপেক্টর অনুপ দে-র মাথা লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া হয়। তিনি কোনও রকমে মাথা সরিয়ে নিলে পাথরটি গাড়িতে গিয়ে পড়ে। তাতে তিনি চোট পান। তাঁকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে পাথর ছোঁড়া হয়েছিল। বিজেপি নেতার উস্কানিমূলক ভাষণের কারণেই পুলিশের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

অনুপবাবুর অভিযোগের ভিত্তিতে স্বতপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়। যদিও শ্যামল রায়কে গ্রেফতারের ঘটনায় তাঁর বক্তব্যকে বিজেপি সমর্থন করছে না, বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপির জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দী। পাশাপাশি তিনি এও জানিয়েছেন, দলের নেতার জন্য তাঁরা আইনী লড়াই লড়ছেন।