স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: অবশেষে কুখ্যাত আসামি কর্ণ বেরা ও তার সাগরেদ রতিকান্তকে কাঁথি আদালতে পেশ করল পুলিশ৷ তাদের বিরুদ্ধের ছিনতাই, আগ্নেয়াস্ত্র মজুত সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে আদালত৷ তদন্তের জন্য শনিবার ঘটনার পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

এদিন আদালত থেকে অভিযুক্তদের প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় কাঁথি উপসংশোধনাগারে। কিন্তু সেখানে নিরাপত্তার ঘাটতি বুঝে জেল কর্তৃপক্ষ তাদের পাঠিয়ে দেয় মেদিনীপুর সেন্ট্রাল জেলে।

আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোর জন্য দেওয়া টাকা ফেরাব কীভাবে, প্রশ্ন তুললেন মমতা

বৃহস্পতিবার কর্ণ সহ চার অভিযুক্তকে আদালতে নিয়ে আসছিল পুলিশ৷ সেই সময় হঠাৎই একটি ব্যাগ থেকে পিস্তল বের করে জিআরও সুশান্ত রানাকে খুব কাছ থেকে পেটে গুলি চালিয়ে দেয় কর্ণ৷ সেই সময় তাকে আটকাতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা ছুঁড়তে শুরু করে ওই দুষ্কৃতী।

তারপর বোমা ছুঁড়তে ছুঁড়তে পালিয়ে যায় সে। তারপর দু’ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে পর তাকে ধরতে সক্ষম হয় পুলিশ৷ এই ঘটনার পর পুলিশ আর ঝুঁকি নিতে চায়নি৷ তাই শুক্রবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে তাকে আদালতে পেশ করা হয়৷

আরও পড়ুন: জামিন পেলেন গুরমিত রাম রহিম সিং

এদিন সকাল থেকে কাঁথি আদালত চত্বরে উৎসুক মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। কর্ণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে হিমসিম খেতে হয় পুলিশকে। অস্ত্রধারী, লাঠিধারী পুলিশ কর্মী থেকে শুরু করে মহকুমা পুলিশের সর্বোচ্চ কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন আদালতে নজরদারি চালানোর জন্য।

কর্ণকে সহ দুজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে নিয়ে যায়৷ কিন্তু ঘটনার আড়ালে কেন্দ্রীয় দুই চরিত্র শেখ মুন্না আর সুরজিৎ গুড়িয়া ফেরার। তাদের এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে জেলের বাইরে এই দুই কুখ্যাতের অবস্থানের জন্য কোনোভাবেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছেন না কাঁথির মানুষ। বিশেষত মুন্নার কারণেই ত্রস্ত সকলেই।

আরও পড়ুন: শনির রাশিচক্রে কী আছে আপনার ভাগ্যে?

প্রায় ১৫ বছর আগে কাঁথির জালাল খাঁ-বাড়ের এই মুন্নাই ছিল এলাকার ত্রাস। খুন, ডাকাতি, ধর্ষণের মতো একাধিক অপরাধের অপরাধী সে। একটা সময় ছিল ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে গৃহকর্তাকে ফোনে সতর্ক করে দিত মুন্না। ঘটনার কথা পুলিশকে জানালে পরিণতি হত নৃশংস মৃত্যু। মুন্না এখন জেলের বাইরে। তাই ইতিহাস সাক্ষ্য সেই সব ঘটনা আবারও ফিরে আসার আশঙ্কা করছেন কাঁথির মানুষ। আর সে কারণেই আপাতত শেষ হচ্ছে না কর্ণ কাণ্ডের কলরব।

পলাতক মুন্না আর সুরজিৎ এখনও কাঁথি শহরের কোনও গুপ্ত কুঠুরির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে বলে অনুমান পুলিশের। আর সেই কারণে শহরের মাঝে থেকে আবারও তারা যে কোনও ধরণের অপরাধ সংগঠিত করতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তাই কড়া সতর্কতা কাঁথি শহরজুড়ে জারি করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: রোনাল্ডো নয়, মেসিকেই তাঁর দলে বাছলেন ফুটবল সম্রাট

শহরের বিভিন্ন রাস্তায় রীতিমতো গাড়ি থামিয়ে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে নাকা তল্লাশি। মাইক প্রচারে সতর্ক করা হয়েছে শহরবাসীকে। বেশি রাত পর্যন্ত বাড়ির বাইরে না থাকার নির্দেশ দিচ্ছে পুলিশ৷ সেই সঙ্গে পলাতক দুই দুষ্কৃতীর কোনও সন্ধান পেলেই নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপ করতে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে মুন্না আর সুরজিৎকে ধরতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে পুলিশ।

কাঁথির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) ইন্দ্রজিৎ বসু বলেন, ‘‘পলাতক দুই আসামি এবং তাদের সঙ্গীদের ধরার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা খুব তাড়াতাড়ি অভিযুক্তদের ধরতে পারবো বলে আশাবাদী।’’

আরও পড়ুন: পাঁচ ঘণ্টার রেল অবরোধে ভোগান্তি হাওড়ায়

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২ মে পুলিশ খুনে ধৃত কর্ণ কাঁথি জেলের সেল থেকেই পালিয়ে ছিল। আর ঠিক সে কারণেই কর্ণকে পুনরায় কাঁথি উপসংশোধনাগারে রাখার সাহস দেখাননি পুলিশ কর্তারা। কর্ণের অপর দুই সঙ্গী কত দ্রুত পুলিশের জালে ধরা পড়ে৷

এবং এলাকার মানুষের মধ্যে ভয় দূর হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়। পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে যদি দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়৷ তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? প্রশ্ন তুলেছে সাধারণ মানুষ।

আরও পড়ুন: অ্যাপেল কর্তাকে হত্যার ঘটনায় ধৃত পুলিশের পাশে সহকর্মীরা