স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: চালান কাগজ সঠিক না করেই বালি তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সেই সব বালি পাচারকারীদের ধরতে বিশেষ অভিযানে নামল জলপাইগুড়ি ভূমি দফতর ও কোতোয়ালি থানায়। তাঁরা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ছয়টি ট্রাক বাজেয়াপ্ত করে৷

এদিন জলপাইগুড়ি শহর ও শহরতলী এলাকায় রাস্তা ও নদীর বালির খাদানে অভিযানে নামেন প্রশাসন। মোট ছয়টি বালি বোঝাই গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে প্রশাসন। অভিযোগ, বাজেয়াপ্ত করা বালি গাড়িগুলির কোনটারই চালান নেই৷ আবার কোনটার চালান আছে তো তারিখ সঠিক নেই। সব গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়।

অন্যদিকে এদিন অভিযানে নেমে বালি পাচারকারীদের চালানের ক্ষেত্রে অভিনব বিষয় লক্ষ্য করেন পুলিশ কর্মী ও ভূমি দফতরের আধিকারিকরা। বেশ কিছু বালি বোঝাই গাড়ির কর্মীরা ভূমি দফতর ও পুলিশের উপস্থিত বুঝে গাড়িতে বসেই চালানে তারিখ লিখতে থাকেন। কেন এমনটা হবে এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ভূমি দফতর।

নিয়ম বালির চালানে বালির পরিমাণ ও তারিখ সহ সময় লেখা থাকবে৷ কিন্তু এদিন গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় সেই রকম তারিখ কিংবা সময় কোনটাই এদিন লক্ষ করা যায়নি। এই কারণে বালি বোঝাই গাড়িগুলি বাজেয়াপ্ত করে প্রশাসন। অন্যদিকে বেশ কিছু গাড়িতে এদিন অভারলোড বালি পাথর তুলে পাচার করা হচ্ছিল। সেই গাড়িগুলিও আটক করে গাড়ির মালিককে জরিমানা করা হয় বলে জানা গিয়েছে। এই ধরনের অভিযান লাগাতার চলবে বলে জানালেন বিএলআরও বিপ্লব হালদার।

দীর্ঘ দিন ধরে জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া শোভাবাড়ি এলাকায় পাঙ্গা থেকে বালি মাটি তোলা হচ্ছে৷ এমনটাই অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের৷ তাই এই অভিযানের আগেও অবৈধ বালি তোলা রুখতে অভিযানে গিয়েছিল ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতর৷ সেই সময় বালি বোঝাই একটি ট্রলার বাজেয়াপ্ত করেছিল তাঁরা৷ প্রায় আট দশ জন বালি তুলে ট্রলারটি ভরতি করছিল৷ তখনই ট্রলারটি ধরতে সক্ষম হয় ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতর৷ কিন্তু তাঁদের উপস্থিতি বুঝে ওই আট দশ জন শ্রমিক পালিয়ে গিয়েছিল৷ অবশেষে বালি সহ এক চালককে আটক করেছিল তাঁরা৷ এরপর ফের এই ধরণের অভিযানে কার্যত খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা৷