নয়াদিল্লি: কাশ্মীরে উত্তাপ ও অশান্তি ছড়ানোর নয়া রাস্তা পাকিস্তানের। পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী ক্রমশ এগোচ্ছে ভারত সীমান্তের দিকে, সূত্র মারফত এমনই খবর মিলেছে। পাক রাজধানী ইসলামাবাদে এমন তথ্য দিয়েছে জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট বা জেকেএলএফ। জেকেএলএফের অন্যতম নেতা রফিক দার জানিয়েছেন এই বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হবে, যদি না ভারতের তরফ থেকে কোনও বাধা আসে।

কার্যত হুমকি দিয়ে তাঁর দাবি কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে ভুল করেছে ভারত। সেই ভুলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই বিক্ষোভের আয়োজন। বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে শনিবারই পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সতর্ক করেছিলেন। তবে সীমান্ত না পেরোবার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। এই বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের যুবকরা বলে জানিয়েছে রফিক দার। মুজফফরাবাদ থেকে গরহি দুপাট্টা হয়ে সীমান্তের কাছে পৌঁছনোর কথা তাঁদের। জানা গিয়েছে, মুজফফরাবাদ-শ্রীনগর হাইওয়ে ধরে এই বিক্ষোভ মিছিল চলবে।

এই মিছিলের ওপর কড়া নজর রেখেছে ভারত। নয়াদিল্লির তরফে সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের মিলিটারি অবজারভার গ্রুপও এই মিছিলে নজর রেখেছে বলে খবর। তবে ভারতের কাছে রাষ্ট্রসংঘের আবেদন কোনও সামরিক শক্তি প্রয়োগ যেন না করা হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে তারা সীমান্ত পেরোবে। তবে প্রস্তুত রয়েছে ভারতীয় সেনাও।

এর আগে পাকিস্তানকে নিশানা করে তোপ দেগেছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। উচ্চপদস্থ মার্কিন আধিকারিকদের সামনে পাকিস্তানের উদ্দ্যেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি৷ তাঁর মতে কাশ্মীরে সন্ত্রাস চালানোর জন্য পাকিস্তান গত ৭০ বছর ধরে পরিকল্পনা করে আসছে৷ কিন্তু নয়াদিল্লির ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়৷

জয়শঙ্করের দাবি এরপর যখন কাশ্মীরের উন্নয়ন শুরু হবে তখন পাকিস্তানের যাবতীয় সন্ত্রাস ছড়ানোর ছক বানচাল হবে৷ ওয়াশিংটনে দাঁড়িয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রী বলেন কাশ্মীর থেকে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত সাময়িক৷ খুব দ্রুত পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে৷ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে৷

কাশ্মীরে শান্তি ফেরানোই মোদী সরকারের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য বলে দাবি করে জয়শঙ্কর বলেন সন্ত্রাস বন্ধই একমাত্র পথ৷ যাতে আর কোনও প্রাণহানি উপত্যকায় না হয়, সেজন্য সচেষ্ট কেন্দ্র সরকার৷ সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যাণ্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজে বিদেশনীতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন জয়শঙ্কর৷ সেখানেই উঠে আসে কাশ্মীর প্রসঙ্গ৷ স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তানের সমালোচনা করে বিদেশমন্ত্রী বলেন কাশ্মীর নিয়ে কখনই গঠনমূলক কিছু করেনি পাকিস্তান৷ ফলে সন্ত্রাস মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পেরেছে৷