লখনউ: বাবরি মসজিদ মামলায় কার্যত মুক্তি পেলেন আদবানীরা। একদিকে শুরু হয়ে গিয়েছে রাম মন্দির নির্মাণের কাজ। অন্যদিকে, লখনউয়ের আদালতে কোনও দোষ প্রমাণিত হয়নি।

এদিন আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে বাবরি মামলায় এই ৩২ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। ঠিক কী কী কারণে বেকসুর খালাসের রায় দিল আদালত?

#আদালত বলছে, বাবরি মসজিদ ধ্বংস কোনও পূর্ব-পরিকল্পিত ঘটনা নয়।
#অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ নেই।
#সিবিআই যেসব অডিও বা ভিডিও দিয়েছে, তার সত্যতাও প্রমাণিত হয়নি।
#বাবরি মসজিদের ডোমের উপর যারা চড়েছিল, তাদের সমাজ-বিরোধী আখ্যা দিয়েছে আদালত।
#সিবিআইয়ের দেওয়া অডিওতে স্পষ্ট কিছু শোনা যাচ্ছে না।
#ডোমের উপর যারা উঠেছিল, তাদের বাধা দিতে চেয়েছিল অভিযুক্তরা। দাবি আদালতের।

বাবরি ধ্বংসের প্রত্যক্ষদর্শীর সংখ্যা অন্তত ৩০-৪০ হাজার। তবে সিবিআই মোট ১০২৬ জনকে সাক্ষী হিসেবে পেশ করার অনুমতি চেয়েছিল। এদের মধ্যেও মাত্র ৩৫১ জন আদালতে গিয়ে সাক্ষী দিয়েছেন। সেই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু নথি এবং ভিডিও ফুটেজ পেশ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

আদালতে পেশ করা হয়েছিল সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক এবং পুলিশকর্মীদের বক্তব্যও। কিন্তু এর কোনও কিছুতেই প্রমাণ হয়নি যে অভিযুক্তরা কোনওরকম অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। লখনউয়ের সিবিআই আদালতের এই রায়ের পর এবার হাই কোর্টে আবেদন করার সুযোগ থাকছে সিবিআইয়ের কাছে। তবে, সিবিআই সেটা করবে কিনা স্পষ্ট নয়।

লখনউয়ের বিশেষ আদালতে ২৪ বছরের পুরনো এই মামলার রায় ছিল বুধবার। আর সেই রায় মুক্তি পেলেন বিজেপি নেতৃত্ব লালকৃষ্ণ আদবানী, মুরলী মনোহর যোশী ও উমা ভারতী সহ ৩২ জন। যদিও এই তিনজন এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ভিডিও লিংকের মাধ্যমে তাঁরা যোগ দেন।

জানা গিয়েছে, করোনা আক্রান্ত হওয়ার দরুণ আসতে পারেননি উমা ভারতী ও কল্যান সিং। করোনা থেকে সদ্য সেরে ওঠার জন্য আসেননি নৃত্য গোপাল দাসও।

বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলায় যে ৪৯ জন অভিযুক্ত ছিলেন, তার মধ্যে বর্তমানে জীবিত রয়েছেন ৩২ জন। এদের মধ্যে ২৬ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ ছিল ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর শতাব্দী প্রাচীন বাবরি মসজিদ ধ্বংস করতে প্ররোচনা দিয়েছিলেন বিজেপি নেতা আডবাণী, যোশী, উমা ভারতী-সহ অন্যরা।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।