ঢাকা: সামরিক শাসককে চোখ রাঙিয়েছিলেন। কেউ দমাতে পারেনি। কিন্তু বার্ধক্য তাঁকেই চোখ রাঙাতে শুরু করছে। বোহেমিয়ান-উড়োনচণ্ডী জগতের শিরোমনি কবি নির্মলেন্দু গুণ অসুস্থ।

বাংলাদেশ তো বটেই পশ্চিমবঙ্গের কবি সাহিত্যিক মহলেও তাঁর বিশেষ পরিচিতি। সেই প্রবীণ কবি ও কলাম লেখক শ্রী নির্মলেন্দু গুণের অসুস্থতার সংবাদে সহপাঠি বন্ধু তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিন্তিত।

কবি নির্মলেন্দু গুণকে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। তিনি সিসিইউতে রয়েছেন, এমনই জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।তবে নির্মলেন্দু বাবুর অবস্থা স্থিতিশীল আছে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বৃহস্পতিবার জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভরতি হনতিনি। ডা. বরেণ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন কবি। পাকিস্তানি আমলেই সামরিক শাসক আয়ুব খানের শাসনের বিরুদ্ধে গর্জে ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের কবি ও সাহিত্যকরা। তাদেরই একজন নির্মলেন্দু গুণ। আর মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধেও তিনি ঝরিয়েছিলেন রোষ।

সবমিলে জনপ্রিয় এই কবি ও স্তম্ভ লেখক বারে বারে বিতর্কে এসেছেন। সেই সঙ্গে ছিল বোহেমিয়ান জীবন। বাংলাদেশ তো বটেই, পশ্চিমবঙ্গেও তিনি জনপ্রিয়। ফলে নির্মলেন্দু গুণের অসুস্থতার সংবাদে চিন্তিত পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য মহল।

তাঁর কবিতা সমূহের মধ্যে অন্যতম হুলিয়া, অসমাপ্ত কবিতা, মানুষ (১৯৭০ প্রেমাংশুর রক্ত চাই), আফ্রিকার প্রেমের কবিতা (১৯৮৬ নিরঞ্জনের পৃথিবী)।

১৯৬৮ সালে দক্ষিণ আমেরিকার আন্তর্জাতিক বর্ণ বৈষম্য বিরোধী নেতা মার্টিন লুথার কিং নিহত হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া নির্মলেন্দু গুণ, আবুল হাসান, সেলিম আল-দীন, হুমায়ুন কবির ও হুমায়ুন আজাদসহ কয়েকজন মিলে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী একটি কবিতা সংকলন প্রকাশ করেছিলেন।