কলকাতাঃ  বাংলায় বিজেপির একমাত্র মুসলিম মুখ মাফুজা খাতুন। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ছেলের খাসতালুক জঙ্গিপুরে তাঁকে প্রার্থী করে কার্যত মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন অমিত শাহ। তাঁর নাম ঘোষণা হওয়াটা ছিল সেখানকার বিজেপি নেতৃত্বের কাছে বড় চমক। কারণ সেখানকার বিজেপি নেতৃত্বও বুঝতে পারেননি যে এভাবে মাফুজার নাম জঙ্গিপুরের মতো কেন্দ্রে ঘোষণা করবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। আর নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই মাফুজার হয়ে জোরদার প্রচারে নেমে পড়ে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব।

শুধু বিজেপি নেতৃত্বই নয়, সিপিএমের প্রাক্তন এই দাপুটে নেত্রীও জোরদার প্রচারে নেমে পড়েন। প্রথমদিন থেকে মানুষের কাছের মানুষ হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছেন মাফুজা। প্রত্যেকের বাড়ি গিয়ে প্রচার সারা তো বটেই, একেবারে তাঁদের কাছের মানুষ হওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর এই জনসংযোগ যথেষ্ট কাজে লাগেও। এই লোকসভা কেন্দ্র কংগ্রেসের অন্যতম শক্তঘাঁটি হিসাবেই পরিচিত।

 

আর সেখানেই ফলপ্রকাশের পর দেখা যায় কংগ্রেসকে একেবারে পিছনে ফেলে দিয়েছেন মাফুজা। জিততে না পারলেও উল্লেখযোগ্যভাবে দ্বিতীয় স্থানে তিনি। আর প্রণব-পুত্র অভিজিৎ পৌঁছে গিয়েছেন একেবারে এক থেকে তিনে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। ফলপ্রকাশের পর চমক অপেক্ষা করছিল বোধহয় তাঁর জন্যে।

কার্যত সবাইকে চমকে দিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ফোন আসল মাফুজার কাছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের বাসিন্দা মাফুজা বলছেন, “প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ফোন এসেছিল। ওঁরা বায়োডাটা জানতে চেয়েছিলেন। আমার বিরুদ্ধে কোনও মামলা আছে কি না তা-ও জানতে চাওয়া হয়।” কিন্তু হঠাত কেন প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ফোন তা এখনও ঠিক বুঝতে পারছেন না মাফুজা।

তবে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতাদের নেকনজরে আছেন মাফুজা। খোদ অমিত শাহ তাঁর নাম এই কেন্দ্রে চূড়ান্ত করেছেন। শুধু তাই নয়, যেভাবে সংখ্যালঘু এই এলাকায় কংগ্রেসকে পিছিনে ফেলে দিয়েছে তাতে সম্ভবত খুশি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। হয়তো সেই কারণেই তাঁর কাছে ফোন আসতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।