নয়াদিল্লি: মোদীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টারা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন প্রাক্তন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টার দিকে৷ মোদী সরকারের প্রাক্তন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রহ্মণিয়াম সম্প্রতি প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপি–র হিসেবের নতুন পদ্ধতি নিয়ে।

নয়া পদ্ধতির মাধ্যমে বেশি বেশি করে দেখান হচ্ছে জাতীয় আয় বলেই অভিযোগ তুলেছেন৷ আর তাকে জবাব দিতে বুধবার বিস্তারিত যুক্তি পেশ করল করল প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক পরামর্শদাতা পরিষদ। এই পরিষদে রয়েছেন বিবেক দেবরায়, রথীন রায়, সুরজিৎ ভল্লার মতো অর্থনীতিবিদেরা।

এক্ষেত্রে কেন্দ্রের যুক্তি, সময়ের সঙ্গে তাল রেখে জিডিপি হিসেবের পদ্ধতি ও ভিত্তিবর্ষ পরিবর্তন করা এদেশে নতুন কিছু নয়। কারণ অর্থনীতির ক্ষেত্রে নতুন কার্যকলাপ, সর্বাধুনিক তথ্যকে এভাবেই মাপকাঠির মধ্যে নিয়ে আসা হয়। ভারতে ভিত্তিবর্ষ বদলে ২০১১-১২ করা হয়েছে একই উদ্দেশ্যে৷ ২০০৮ সাল থেকে পাঁচটি সাবকমিটি বিস্তারিত আলোচনা করে নতুন পদ্ধতি চূড়ান্ত করে। তাছাড়া আগে অর্থনীতিতে সমস্ত কর্মীর অবদান সমান ভাবে হিসেব কষা হতো, সেখানে নতুন পদ্ধতিতে কাজের গুরুত্ব ও ধরনকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রের বক্তব্য, বহু দেশই এই সময়ে পদ্ধতি বদল করেছে।

আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অরবিন্দ সুব্রহ্মণিয়াম এক গবেষণাপত্রে এই সব বিষয়টি উঠে এসেছে৷ যাতে ২০১১–১২ এবং ২০১৬–১৭, দু’‌বার এই নতুন পদ্ধতিতে হিসেব করা হয়েছে ৷ যার ফলে জিডিপির হার ২.‌৫% বাড়িয়ে দেখানো হয়েছিল। যেখান সম্ভাব্য জিডিপি ৭% বলে দাবি করা হয়েছিল, তা তখন বাস্তবে ছিল ৪.‌৫%। ওই আর্থিক বছর দুটি ইউপিএ এবং এনডিএ উভয় সরকারের আমলে। এর মানে দুই সরকারই জল মিশিয়েছিল জাতীয় আয় হিসেবের সময়।