নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ১৯শের লোকসভায় বৈতরণী পারে বিজেপির নজরে বাংলা৷ দলের সভাপতির গলাতেও বাংলা জয়ের ডাক৷ কিন্তু রাজনীতির এই তত্ত্ব মানতে নারাজ প্রধানমন্ত্রী মোদী৷ তাঁর ব্যাখ্যা, কেবল রাজনৈতিক কারণে নয়, পূর্ব ভারতকে দেশের পশ্চিম প্রান্তের মতো উন্নত করতে হবে৷ যা বাংলা দখল ছাড়া সম্ভব নয়৷

আরও পড়ুন: ভাঙড়ের বুথে বিরোধী এজেন্ট নয়, হুমকি তৃণমূল গ্রামপঞ্চায়েত প্রধানের

এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী৷ সেখানেই উঠে আসে হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যে ভোটে পরাজয়ের প্রসঙ্গ, পশ্চিমবঙ্গের কথা৷ গত লোকসবায় হিন্দি বলয় থেকে মোদী ম্যাজিকে মুছে গিয়েছিলেন বিরোধীরা৷ এবার পরিস্থিতি বদলেছে৷ তা পূরণ করতেই কী গেরুয়া শিবিরের পাখির চোখ মমতার বাংলা? জবাবে বিজেপির পোস্টার বয় বলেন, ‘‘রাজনৈতিক প্রয়োজনের থেকেও এখানে প্রধান্য পাবে দেশের স্বার্থ৷’’

মোদীর ব্যাখ্যা, ‘‘উন্নত ভারত গড়তে হলে দেশের পশ্চিম অংশের মতো পূর্ব ভারতকেও উন্নত হতে হবে৷ দেশজুড়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিকাশ প্রয়োজন৷ ভারতের পশ্চিম দিকে তাকালেই অর্থনৈতিক অগ্রগতি নজরে আসবে৷ কিন্তু পূর্বে তা হয়নি৷ অথচ প্রাকৃতিক রসদ ও মানবসম্পদে ভরা পূর্ব ভারত৷ বেশিরভাগ আইপিএস এখন তৈরি হচ্ছেন এই প্রান্ত থেকে৷ কিন্তু বিকাশ হয়নি ঠিক মতো৷’’

আরও পড়ুন: পাঁচ বছরে দেখা মেলেনি সাংসদের, বিক্ষোভের মুখে কংগ্রেসের ডালুবাবু

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘দেশের সার্বিক উন্নতির জন্যই পূর্ব ভারতের উন্নয় চাই৷ ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসেই এই অংশের বিভিন্ন রাজ্যের সরকাররে সাহায্য করতে দ্বিধা করিনি৷ কিন্তু তাদের মন ছিল দলীয় সংকীর্ণ রাজনীতির দিকে৷ ফলে যে-কে সেই অবস্থা৷ তাই এবার বিজেপির নজরে পূর্ব ভারত৷ যা অবশ্যই কলকাতা ও বাংলা ছাড়া সম্ভব নয়৷’’ সম্পূর্ণ বিষয়টি ২০১৩ সালে বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে আগেই ব্যাখ্যা করা হয়েছিল বলে এদিন মনে করিয়ে দেন নকেন্দ্র মোদী৷

কলকাতাকে বলে গেটওয়ে অফ ইস্ট৷ বলা হত, বাংলাই আজ যা বলে কাল তা করে ভারত৷ তারই যেন প্রতিধ্বনি শোনা গেল প্রধানমন্ত্রীর মুখে৷ তাঁর কথায়, ‘‘কলকাতা হবে পূর্ব ভারতের মধ্যমণি৷ সেই সময় খুব বেশি দেরি নেই যখন বাংলা গোটা দেশকে পথ বাতলাবে৷’’

আরও পড়ুন: লোকসভা নির্বাচনে ভোটের মুখ গুপী বাঘা

ভোটের সময় রাজনীতির মোড়কে নয়, বাংলা তথা পূর্ব ভারতের উন্নয়নকে হাতিয়ার করেই চৈতন্যদেব, রবীন্দ্র, নজরুলের পরবর্তী প্রজন্মের মন জয়ের চেষ্টা করলেন প্রধানমন্ত্রী৷ মনে করছেন বিশ্লেষকরা৷