নয়াদিল্লি: বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর নিজেকে বদলে ফেলেছেন নরেন্দ্র মোদী৷ সংঘাতের রাস্তা ছেড়ে বিরোধীদের সহযোগিতায় সরকার চালানোর বার্তা দিয়েছেন৷ কিন্তু মোদীর সঙ্গে আপাতত সহযোগিতার রাস্তায় হাঁটতে নারাজ বিরোধী দলগুলি৷ প্রধানমন্ত্রীর ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে তাদের না যাওয়ার সিদ্ধান্তই সেই বার্তা দিচ্ছে৷

‘এক দেশ এক ভোট’ বিষয়কে সামনে রেখে বুধবার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন নরেন্দ্র মোদী৷ কিন্তু বিরোধী শিবির থেকে অনেকেই সেই বৈঠকে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকালই সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে চিঠি লিখে বৈঠকে না থাকার কথা জানিয়ে দিয়েছেন৷ কারণ হিসাবে তিনি লেখেন, এত কম সময়ের মধ্যে এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব নয়৷ এর জন্য সময় দেওয়া দরকার৷ সংবিধান বিশেষজ্ঞ, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ এবং সর্বোপরি দলের নেতাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার দরকার৷ তাই এত তাড়াহুড়ো না করে সব রাজনৈতিক দলের কাছে শ্বেতপত্র পাঠানো হোক৷ রাজনৈতিক দলগুলিকে সময় দিলে তবেই এবিষয়ে মতামত দেওয়া সম্ভব৷

মমতার পথে হাঁটেন মায়াবতীও৷ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বুধবার সকালে ট্যুইট করে বসপা সুপ্রিমোর ঘোষণা, আসল সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা চলছে৷ কেন্দ্রর উচিত দারিদ্র, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব ইত্যাদি ইস্যুর উপর জোর দেওয়া৷ প্রধানমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে যাবেন না দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে সি রাও, ডিএমকে সভাপতি এম কে স্ট্যালিন, টিডিপি নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু৷ তবে অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং চন্দ্রবাবু তাদের প্রতিনিধি পাঠাতে পারেন৷

অন্য কাজ পড়ে যাওয়ায় বৈঠকে যেতে পারছেন না উদ্বভ ঠাকরে৷ শিবসেনার আজ ৫৩ তম প্রতিষ্ঠা দিবস৷ দিনভর নানা কমসূচি রয়েছে৷ সেখানেই ব্যস্ত থাকবেন উদ্বভ ঠাকরে৷ কংগ্রেস বৈঠকে থাকবে কিনা তা স্পষ্ট নয়৷ তবে সূত্রের খবর, বৈঠকে থাকলেও এই নীতির বিরোধীতা করবে৷

গত বছর অগষ্ট মাসে ল’কমিশন তাদের খসড়ায় জানায়, লোকসভা ও বিধানসভার (জম্মু ও কাশ্মীর ছাড়া) ভোট একসঙ্গে হলে জনগণের টাকা সাশ্রয় হবে৷ সরকার আরও বেশি করে উন্নয়নমূলক কাজে মনোনিবেশ করতে পারবে৷ বিজেপিরও ইচ্ছা দেশে একসঙ্গে সব নির্বাচন হোক৷ ষোড়শ লোকসভা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও সেই নীতি কার্যকর করে উঠতে পারেনি৷ এবার বিজেপির শক্তি বেড়েছে৷ তাই দেরি না করে এখন থেকেই তৎপরতা দেখাতে শুরু করেছে৷ রাজনৈতিক মহলের অভিমত, প্রথম বৈঠকে কোনও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর ভাবনা বোকামি৷