নয়াদিল্লি: কারতারপুর করিডোরের উদ্বোধনি অনুষ্ঠান ঘিরে অবশেষে যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটাল কেন্দ্র। আগামী ৮ নভেম্বর গুরু নানকের পাঁচশো পঞ্চাশতম জন্মবার্ষিকী। সেই উপলক্ষ্যে ভারত-পাক সীমান্তে তৈরি কারতারপুর করিডোরের উদ্বোধনে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরসিমরত কউর বাদলের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে সরকারি তরফে এই খবর জানানো হয়েছে।

যদিও এই ঘোষণার অনেক আগেই পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং’এর তরফে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পঞ্জাবের পক্ষ থেকে এই আমন্ত্রনের বিষয়টি জানানো হয়। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারত-পাক সীমান্তে অবস্থিত হলেও পঞ্জাব থেকে কারতারপুর করিডোরের দুরত্ব মাত্র ৪.৭ কিলোমিটার। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মোদীর সাক্ষাতের সময় ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং ভারতের প্রধানমন্ত্রী সহ রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকেও আগামী ৮ নভেম্বর গুরু নানকের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কারতারপুর করিডরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে । অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং’এর আমন্ত্রণ গ্রহন করে আগামী ৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।

যদিও এর আগে কারতারপুর করিডরের উদ্বোধন অনুষ্ঠান ঘিরে পাক-বিদেশমন্ত্রকের তরফে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ডিঙিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং’কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। যদিও কংগ্রেসের তরফে সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৯ নভেম্বর ঐতিহাসিক ওই করিডোরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন পঞ্জাবের সমস্ত মন্ত্রী ও সাংসদেরা। গুরু নানকের জন্মের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সুলতানপুরের লোধি নামক স্থানটি। আর সেখানে ভারতের তরফে যে অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হবে তাতে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং অংশগ্রহন করবেন বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের তরফে ভারতীয় শিখ তীর্থযাত্রীদের জন্য এই করিডোরটি ৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ১২ নভেম্বর খুলে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। এই করিডোরটি খুলে গেলে প্রতিদিন প্রায় পাঁচহাজার শিখ তীর্থযাত্রী বিনা ভিসায় এখানে প্রবেশ করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, পাক সরকারের তরফে অনেক আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল যে ভারত থেকে যেসমস্ত তীর্থযাত্রীরা কারতারপুরে ঘুরতে আসবেন তাঁদের জন্য ফ্রী ভিসা, দুপুরের খাওয়া এবং ফ্রিতে মেডিকেল চেকআপের ব্যবস্থা করা হবে।

প্রসঙ্গত, ভারত-পাক সীমান্তে যে করিডোরটি তৈরি করা হয়েছে সেটি, ভারতের গুরুদাসপুর জেলা থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং এটি উত্তর লাহোর থেকে প্রায় একশো কুড়ি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যেখানে গুরুনানক তাঁর মৃত্যুর(১৫৩৯) আগে প্রায় আঠারো বছর থেকে ছিলেন।