ফাইল ছবি৷

মালে: সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে পাকিস্তানকে তুলোধনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর৷ ভারতের প্রতিবেশী এই দেশটি সন্ত্রাসের মদতদাতা৷ রাষ্ট্র পরিচালিত সন্ত্রাস এখন দেশের গণ্ডী পেরিয়ে সমগ্র সভ্যতা ও মানবতার পক্ষে বিপদজ্জনক হয়ে উঠেছে ৷ তাই সময় এসেছে একজোট হয়ে এর বিরুদ্ধে লড়াই করার৷ পাকিস্তানের নাম উচ্চারণ না করে গোটা বিশ্বের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ তাও আবার বন্ধু রাষ্ট্র মালদ্বীপের পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে৷

দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে প্রথম বিদেশ সফর হিসাবে দ্বীপরাষ্ট্রকে বেছে নেন নমো৷ সফরে এসে মালদ্বীপের পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী৷ তাঁর বক্তব্যে অধিক গুরুত্ব পায় সন্ত্রাসবাদ৷ মোদী বলেন, ‘‘সন্ত্রাসবাদ এখন আর কোনও একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই৷ সভ্যতা ও মানবতার পক্ষে বিপদজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ এর থেকেও ভয়ঙ্কর এবং আরও বিপদজ্জনক হল রাষ্ট্র পরিচালিত সন্ত্রাস৷ তাই সময় এসেছে একযোগে লড়াই করে সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করার৷’’ মোদীর আরও সংযোজন, এটা খুবই দূর্ভাগ্যজনক কেউ কেউ ‘ভালো’ ও ‘মন্দ’ জঙ্গিদের মধ্যে ফারাক করে বসেন৷

অতীতে দেশে যত জঙ্গি হামলা হয়েছে তার সবকটির নেপথ্যে পাক যোগের প্রমাণ তুলে ধরে ভারত সরকার৷ পাকিস্তানের মাটিকে জঙ্গিরা যাতে ব্যবহার করতে না পারে তার জন্য প্রতিবেশী দেশকে বারবার কড়া হওয়ার বার্তা দিয়ে এসেছে ভারত৷ কিন্তু পাকিস্তান ভারতের কোনও কথাই কানে তোলেনি৷ তাই এখন মোদীকেও বলতে হল, ‘‘জল এবার মাথার উপর দিয়ে বইতে শুরু করেছে৷’’

বিদেশ নীতির ক্ষেত্রে ভারতের সরকারের বিজ্ঞাপিত এবং বহু চর্চিত নীতি হল, ‘প্রতিবেশীই প্রথম’৷ মোদীর শপথগ্রহণের দিনও এই বিদেশ নীতির ঝলক দেখতে পাওয়া যায়৷ আর মোদীও তাঁর প্রথম বিদেশ সফর শুরু করেন প্রতিবেশী দেশ মালদ্বীপ থেকেই৷ দ্বীপরাষ্ট্রে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও সম্মান পেয়ে তিনি আপ্লুত৷ মোদীর কথায়, আপনাদের আপ্যায়ন প্রত্যেক ভারতবাসীর মন ছুঁয়ে গিয়েছে৷ দুই দেশের সম্পর্ক ইতিহাসের থেকেও পুরোনো৷ সেই সম্পর্ক আগামিদিনেও বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর মোদী৷ জানান, মালদ্বীপের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে ভারত সমসময় তাদের পাশে থাকবে৷

মালদ্বীপে আসার পর নরেন্দ্র মোদীকে সেদেশের সরকার ‘রুল অফ নিশান ইজুদ্দিন’ এ সম্মানিত করে৷ এটি মালদ্বীপের সর্বোচ্চ সম্মান৷ দ্বীপরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মহম্মদ সোলিহ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এই সম্মানে ভূষিত করেন৷