নয়াদিল্লি: বাংলা উজাড় করে ভোট পেয়েছে বিজেপি৷ তারই প্রতিদানে মন্ত্রী পেতে পারে এ রাজ্য৷ এমনই ইঙ্গিত মিলছে৷ শুক্রবারই নতুন মন্ত্রিসভার গঠন নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদী৷ সেখানে নতুন মুখেরই জয়জয়কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে৷ ৩০ শে মে দ্বিতীয় বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিতে চলেছেন মোদী৷ তার আগে, খসড়া ছকে ফেলতে চাইছে বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা৷

বাংলায় এবার চমক দিয়েছে বিজেপি৷ তৃণমূলকে আতংকিত করে ১৮টি আসন পেয়েছে গেরুয়া শিবির৷ তাই বাংলার জয়ী প্রার্থীদের বেশ কয়েকজন রয়েছেন সম্ভাব্য মন্ত্রীত্বের তালিকায়৷ এবার বাংলাকে পাখির চোখ করেছিল বিজেপি। আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও রাজ্যের ক্ষমতা দখল করার স্বপ্ন দেখছে বিজেপি শিবির। আর সেজন্যে এবার ১৭ বার বাংলায় প্রচারে এসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুধু তাই নয়, বাংলায় দফায় দফায় প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে এসেছেন রাজনাথ সিং, যোগী আদিত্যনাথ সহ একাধিক বিজেপি নেতা-মন্ত্রী। তার ফলও পেয়েছে গেরুয়া শিবির৷

আরও পড়ুন : ‘গদ্দারের ছেলে’ তকমা পেয়ে অভিমানী শুভ্রাংশু বললেন, ‘সব দলের দরজাই খোলা’

তবে অর্থ, প্রতিরক্ষা, বিদেশ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে কে থাকবেন, তা এখনও খোলসা করে বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়নি৷ অমিত শাহকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দিয়ে সম্মান জানাতে পারেন মোদী৷ পুরস্কৃত হতে পারেন স্মৃতি ইরানি৷ কংগ্রেস গড় আমেঠিতে স্মৃতির জয় নজর কেড়েছে৷ তাই বস্ত্র মন্ত্রক থেকে সরিয়ে স্মৃতিকে গুরুত্বপূর্ণ কোনও পদে দিতে পারেন মোদী৷ ভাবনা চিন্তায় রয়েছে অর্থ মন্ত্রক৷ অসুস্থ অরুণ জেটলির জায়গায় কে আসবেন, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে৷

এদিকে, ২০১৪ সালে প্রথমবারের জন্য ক্ষমতায় এসে মোদীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ছিলেন সার্কভুক্ত দেশগুলির রাষ্ট্রনায়করা৷ পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফও৷ এবারও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতারা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মোদীর জয়ে৷ ট্যুইট করে তাঁদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদী৷ ভারতের লোকসভা নির্বাচনে নজর ছিল পাকিস্তানেরও৷

আরও পড়ুন : ভয়াবহ বিপর্যয়ে আতঙ্কিত তৃণমূল নেতৃত্ব, ফোন ধরতেও অনীহা

ফলে তাবড় রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতিতেই উজ্জ্বল হবে মোদীর শপথগ্রহণ, আন্দাজ করা যাচ্ছে৷ বুথ পরবর্তী সমীক্ষার পরেই গত মঙ্গলবার এনডিএ’র সমস্ত শরিককে নিয়ে বৈঠকে বসেন মোদী-অমিত শাহরা। যদিও সেই বৈঠকের আগে কার্যত খুবই ‘গোপনে’ নিজেদের মধ্যে বৈঠকে বসেন মোদী-অমিত শাহরা। তখনই ঠিক হয়েছিল দ্বিতীয় বারের জন্যে ক্ষমতার শীর্ষে মোদী ফিরলে নতুন করে তাঁর মন্ত্রিসভা সাজাবেন তিনি।

শুক্রবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে পাঠাবেন নরেন্দ্র মোদী৷ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও একটি তালিকা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে৷ সেই তালিকায় থাকবে নবনির্বাচিত প্রার্থীদের নাম৷ তারপরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে৷