নয়াদিল্লি: শিয়রে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচন। প্রচারে ঝড় তুলছে শাসক-বিরোধী শিবির। সোমবার দিল্লির কারকারডুমায় প্রচারে গিয়ে বিজেপি বিরোধী দলগুলিকে তুলোধনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লির শাহিনবাগ ও জামিয়ায় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলনের পিছনে রাজনৈতিক মদত রয়েছে বলে অভিযোগ মোদীর।

সোমবার পূর্ব দিল্লির কারকারডুমায় বিজেপি প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লিবাসীর মন পেতে মোদীর তাস উন্নয়ন। দিল্লিতে এবার বিজেপি ক্ষমতায় এলে ঢালাও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নরেন্দ্র মোদীর। রাজধানীর কলোনিগুলিতে উন্নয়নের আশ্বাস দেন মোদী। ২০২২ সালের মধ্যেই কলোনিগুলিতে বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস মোদীর। বক্তৃতায় মোদী বলেন, ‘দিল্লি জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কলোনিগুলিতে কম-বেশি ৪০ লক্ষ মানুষ বাস করেন। তাঁরা কোনওদিন নিজেদের বাড়ি তৈরির কথা ভাবতে পারেননি। এবার তাঁদের সেই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার সময় এসেছে।’

একইসঙ্গে ভোট প্রচারে বেরিয়ে দিল্লির শাসকদল আপ-কে তুলোধনা করেন নরেন্দ্র মোদী। আপ-এর রাজনীতির জন্যই দিল্লির উন্নয়ন থমকে রয়েছে বলে অভিযোগ মোদীর। এমনকী দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার কাজেও আপ সরকার বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ মোদীর। কেজরিওয়ালের সরকারকে কটাক্ষ করে মোদীর তোপ, ‘এখনও যদি এই সরকার দিল্লিতে ক্ষমতায় থেকে যায় তবে উন্নয়নের কাজ পদে পদে বাধাপ্রাপ্ত হবে। রাজনীতি করা ছাড়া, দিল্লির সরকার কিছুই জানে না।’

আসন্ন দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীদের জয়ী করার আবেদন জানানোর পাশাপাশি মোদী আরও বলেন, ‘এবার দিল্লিবাসীর ভোটদান দেশে বদল আনবে। দিল্লির সার্বিক উন্নয়নের জন্য এবার ভোট দেবেন মানুষ। জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন চেয়ে এবার ভোটের লাইনে দাঁড়াবে দিল্লিবাসী। ঘৃণার রাজনীতি দিয়ে দেশ চলে না, উন্নয়ন সংক্রান্ত নীতিই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়।’

উলটোদিকে দিল্লিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলন নিয়েও এদিন বিজেপি বিরোধী দলগুলিকে একহাত নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। শাহিনবাগ ও জামিয়ায় সিএএ বিরোধী আন্দোলনের পিছনে রাজনৈতিক মদতের অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়েও এদিন প্রতিপক্ষ দলগুলিকে টিপ্পনি কাটতে শোনা যায় প্রধানমন্ত্রীর মুখে। মোদী বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তাবাহিনীর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়েও এঁরা প্রশ্ন তুলছেন। এঁদেরই আপনারা দিল্লির ক্ষমতায় আনতে চান? যাঁরা দেশ ভাঙার কথা বলে তাঁদেরকেই এঁরা সমর্থন করছেন। দিল্লিতে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তা সত্ত্বেও এঁরা বাটলা হাউসের এনকাউন্টারকে ভুয়ো বলছেন। এঁরাই টুকরে টুকরে গ্যাংকে সমর্থন জোগাচ্ছে।’

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে প্রচারে শাসক-বিরোধী কেউ কাউকে এতটুকু জমি ছাড়তেও নারাজ। একদিকে দিল্লির আপ সরকারকে তুলোধনা করে দিল্লি দখলের চেষ্টা গেরুয়া শিবিরের। অন্যদিকে, সিএএ ইস্যুতে বিজেপিকে বিঁধে উন্নয়ন নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে আবারও দিল্লি দখলের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে কংগ্রেস।