ঠাকুরনগর (উত্তর ২৪পরগনা): মতুয়া জনসমাবেশ থেকে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের পক্ষেই জোরালো সওয়াল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর৷ যদিও তিনি সরাসরি বিলটির নাম বলেননি৷ তবে যেভাবে প্রতিবেশী মুসলিম ধর্মাবলম্বী প্রধান দেশগুলি থেকে অ-মুসলিমদের ভারতে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু করতে চাইছে সরকার, তার পক্ষেই কথা বললেন৷

উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুর নগরে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে হিন্দু-শিখ-জৈনরা ভারতে আশ্রয় নিতে আসছেন৷ পাকিস্তান, বাংলাদেশ আফগানিস্তান থেকে তাঁদের চলে আসতে চাওয়া কি করে আটকানো সম্ভব?

মতুয়া সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ প্রতিবেশী বাংলাদেশে থাকেন৷ মতুয়াদের দুই শীর্ষ গুরু গুরুচাঁদ ও হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মভূমি এখনকার বাংলাদেশ৷ নাগরিকত্ব সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে থাকা মতুয়াদের ভারতের নাগরিক হিসেবে স্থান দিতে হলে জনসংখ্যা ও তীব্র জাতিগত সংঘাত বাড়তে পারেই বলে মনে করা হচ্ছে৷ ঠিক একইভাবে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে থাকা উপজাতিদের অভিযোগ, নাগরিকত্ব সংশোধনীর বলে বাংলাদেশ থেকে যে বিরাট অংশের অ-মুসলিম আসবেন তাদের সঙ্গে বাঁধবে সংঘাত৷

কেন্দ্র সরকার চলতি মাসেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সংসদে আনতে মরিয়া৷ এর জেরে উত্তর পূর্বাঞ্চল ভারতে ছড়িয়েছে প্রবল রাজনৈতিক উত্তাপ৷ অসম, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মনিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত৷ বিক্ষোভে উত্তপ্ত অসম৷ ত্রিপুরায় গুলি চলেছে উপজাতিদের উপরে৷ মেঘালয় সহ একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা বিজেপির সঙ্গ ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন৷

এমন অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে অসম সহ উত্তর পূর্বাচলে পাঠানো হয়েছে বিজেপির অন্যতম ক্রাইসিস ম্যানেজার রাম মাধবকে৷ নাগরিকত্ব সংশোধনী ঘিরে এই এলাকায় বিজেপির পরিস্থিতি খারাপ হতে চলেছে তা দলের কাছে জানিয়েছেন রাম মাধব৷ এই ব্যাপারে বিভিন্ন স্থানীয় দল ও সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে৷ গুয়াহাটির বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর, রাম মাধবের উপস্থিতির পরেও বিক্ষোভের আগুন কমেনি৷

অসমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সদ্য বিজেপির জোট ছেড়ে আসা অগপ নেতা প্ৰফুল্ল কুমার মহন্ত জানিয়েছেন,উত্তর পূর্বাঞ্চলের জনতা যখন বিলের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্ৰতিবাদ জানাচ্ছেন, সেসময় কেন্দ্ৰীয় সরকারের নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল এই অঞ্চলের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনওভাবেই উচিত হবে না। গণতন্ত্ৰে বেশি সংখ্যক মানুষের আওয়াজকে মর্যাদা দেওয়া উচিত।

বিলটি নিয়ে ক্ষোভ দেখিয়েছেন অসম বিধানসভার স্পিকার ও অপর শরিক দল বোড়োল্যান্ডের পক্ষে থাকা বিপিএফ৷ ক্রমে সরকারের সঙ্গে বাড়ছে দূরত্ব৷ মুখ খুলছেন একাধিক বিজেপি নেতা৷ ত্রিপুরায় উপজাতি সংগঠন আইপিএফটি সরকারের শরিক৷ তাদেরই একটি অংশ বিরোধিতা শুরু করেছে৷ তৈরি হয়েছে পৃথক মঞ্চ৷

এদিকে অগপ সভাপতি অতুল বরার নেতৃত্ব উচ্চ পর্যায়ের একটি দল নয়াদিল্লিতে গিয়েছেন৷ তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো,বিলটি যাতে কোনওভাবে পাস না হয় তা সুনিশ্চিত করা। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গুলাম নবি আজাদ জানিয়েছেন-এই বিল কোনওভাবেই সরকারকে পাশ করাতে দেওয়া হবে না৷ আর নাগরিকত্ব সংশোধনী ঘিরে উত্তপ্ত উত্তর পূর্বাঞ্চলের মিজোরাম থেকে আওয়াজ উঠছে- ‘ওয়েলকাম চায়না’ ৷ ছড়াচ্ছে বিক্ষোভ৷