নয়াদিল্লি: লকডাউন বাড়ানো নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ১৪ এপ্রিলের পর লকডাউন বাড়ানোর ক্ষেত্রে সায় দিয়েছেন অনেকেই। এবার সেই কথাই বললেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

বুধবার করোনা ভাইরাস ও তার মোকাবিলা নিয়ে সর্বদলীয় এক বৈঠকে একথা বলেছেন মোদী। সূত্রের খবর, তিনি বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ১৪ এপ্রিল হয়ত লকডাউন তোলা সম্ভব নয়।’

 আরও পড়ুন: শুধু চিন নয়, শত শত বছর ধরে যুদ্ধে ব্যাবহার হচ্ছে জৈবাস্ত্র

এদিন তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাস শেষ হয়ে গেলেও সবকিছু আর আগের মত হবে না। প্রি-করোনা এবং পোস্ট করোনা স্টেজ থাকবে।’ সামাজিক ও ব্যবহারিক বেশ কিছু পরিবর্তন হবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

২৫ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে এই লকডাউন। ৩ সপ্তাহ, ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এই লকডাউন চলার কথা। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমনটাই জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। অনেক বিশেষজ্ঞ মানুষই মনে করছে লকডাউন আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

 আরও পড়ুন: রাজ্যে স্বস্তির খবর: এনআরএসের ৭৯ জনের মধ্যে ৭৪ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ

ফলে ঝুঁকি না নিয়ে এখনও বিমান বাতিলের ঘোষণা করে দিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো। এই সংস্থার তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল এবং ডোমেস্টিক সমস্ত উড়ান বাতিল করা হয়েছে। এমনিতেই ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়ার সমস্ত উড়ান বন্ধ রয়েছে।

ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্য থেকে কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে যাতে লকডাউন বাড়িয়ে দেওয়া হয়। শুধু রাজ্য গুলোই নয় একাধিক বিশেষজ্ঞ কেন্দ্রীয় সরকারকে একই পরামর্শ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তৈরি ১১ জনের বিশেষ কমিটিকে সেসব পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেখানে বেশির ভাগেরই মত লকডাউন বাড়ানোর দিকেই।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সব রাজ্যের ধর্মীয় স্থান বন্ধ করে দিতে হবে। কোনও ধর্মের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া যাবে না। স্কুল-কলেজ ও জুন মাস পর্যন্ত বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে আপাতত যেন বদলি বন্ধ রাখা হয়, সেই আর্জিও জানিয়েছে রাজ্যগুলি। হোটেল, রেস্তোরাঁ, বারগুলির ক্ষেত্রেও লকডাউন জারি রাখার কথা বলা হয়েছে। আপাতত কোনও বিয়েবাড়ি, শোকসভা কিংবা কনফারেন্স করা যাবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছে। যদিও এখনও লকডাউন বাড়ানোর বিষয়ে কোনও স্পষ্ট সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি কেন্দ্র।