নয়াদিল্লিঃ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ঘিরে ভারতে প্রতিবাদ চলছে৷ আইনটি কেন প্রয়োগ করা হল সেই বিষয়েও মুখ খুলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী৷ এমনই আবহে বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী৷

আগামী ১৬ মার্চ ঢাকায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ১৭ মার্চ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তিনি৷  বাংলাদেশ সরকার আগেই জানিয়েছে, মোদীকে আমন্ত্রণের বিষয়টি৷ এদিকে মোদীর সফর ঘিরে কূটনৈতিক মহল সরগরম৷ কারণ সেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন৷

এই আইনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী মুসলিম প্রধান দেশগুলির নিপিড়ীত অ-মুসলিমরা চাইলে ভারতে নাগরিক হওয়ার ঐবেদন করতে পারবেন৷ তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে৷ বিজেপির একাধিক মন্ত্রী ও নেতা দাবি করেছেন, ভারতে থাকা অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের অবিলম্বে তাড়ানো হবে৷

এদিকে আইনটি লাগু হওয়ার পরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়৷ বিভিন্ন অ-বিজেপি রাজ্য সরকার এর বিরোধিতা করেছে৷ চলছে টানা প্রতিবাদ৷ সিএএ আইনের পরিপ্রেক্ষিতে কূটনৈতিকভাবে জবাব দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার৷ প্রথমে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁদের সফর বাতিল করেন৷

এর পরে গত ২০ জানুয়ারি দুবাই থেকে গালফ নিউজ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভারতে সিএএ-আইনের প্রয়োজন ছিল না৷ একইসঙ্গে তিনি এটিকে ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ হিসেবে তুলে ধরেছেন৷

এসেবর মাঝেই মোদীর ঢাকা সফরে তৈরি হচ্ছে কূটনৈতিক গরম হাওয়ার পরিবেশ৷ বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকা দল আওয়ামী লীগ কেন মোদীকে আমন্ত্রণ জানালো এই প্রশ্ন তুলছে বিরোধী দলগুলি৷ সেই সঙ্গে গলা মিলিয়েছেন বিভিন্ন বুদ্ধিজীবীরা৷ তাঁদের যুক্তি, ভারতেই আইনটির বিরুদ্ধে লাগাতাতার আন্দোলন চলছে৷ মোদীর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন বিরাট সংখ্যক জনগণ৷ তবে কেন বাংলাদেশ সরকরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে মোদীকে এত গুরুত্ব দিচ্ছে৷