নয়াদিল্লি: প্রত্যেকবার ১৫ অগস্টে দেশ জুড়ে তৈরি হয় সাজো সাজো রব। সেজে ওঠে রাজধানী। তবে, এবার পরিস্থিতি অন্যরকম। অতিমারীর মধ্যেও পালিত হবে ভারতের স্বাধীনতা দিবস। কমিয়ে দেওয়া হয়েছে অতিথি সংখ্যা। তবে প্রত্যেকবারের মত এবারও রেড ফোর্টে পতাকা উত্তোলন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

জানা গিয়েছে, তাঁর কাছাকাছি যেসব অফিসারেরা আসবেন তাঁদের করোনা টেস্ট হবে। তাঁদের রিপোর্ট নেগেটিভ হলে রাখা হবে কোয়ারেন্টাইনে। এরপরই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন তাঁরা।

জানা গিয়েছে, এবারের অনুষ্ঠানে যিনি প্রধানমন্ত্রীকে পতাকা তুলতে সাহায্য করবেন, তিনি একজন মহিলা অফিসার। তাঁরও করোনা টেস্ট হয়েছে।

ভিভিআইপি তালিকায় নাম রয়েছে ১১০ জনের। সোশ্যাল ডিসট্যান্সের গাইডলাইন কঠোরভাবে মেনে হবে সেই অনুষ্ঠান। যাঁরা কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় সেনা, এয়ার ফোর্স, নেভি, দিল্লি পুলিশের আধিকারিকেরা।

এবারও রেড ফোর্ট থেকে বক্তব্য দেবেন তিনি।

প্রভাব পড়ছে এবারের রাষ্ট্রপতি ভবনে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে এবারের অনুষ্ঠানে অতিথি সংখ্যা কমিয়ে ৯০ করা হচ্ছে। যেখানে প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানে প্রায় দেড় হাজার অতিথি আমন্ত্রিত থাকেন।

শুধু সংখ্যায় কম নয় চিরাচরিত নিয়মে যে এলাহি আয়োজন হয়ে থাকতো এবার করোনার কোপে পড়েছে সেই আয়োজনেও।এই বছর কোন ভিআইপির স্ত্রী বা স্বামী আমন্ত্রণ পাচ্ছেন না। তাছাড়া লাইভ খাবারের কাউন্টার রাখা হচ্ছে না। কোন স্বাধীনতা সংগ্রামী এবার উপস্থিত থাকতে পারবেন না এবং বিশিষ্ট অতিথিদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার সুযোগ রাখা হচ্ছে না। আড়াই ঘন্টার সময়ের এই অনুষ্ঠানকে কমিয়ে মাত্র এক ঘন্টার করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি ভবনের এক আধিকারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র অনুষ্ঠানের রীতি বজায় রাখতেই যেটুকু না করলেই নয় সেটুকুই মাত্র আয়োজন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আমন্ত্রণ পাবেন প্রতিরক্ষা স্বরাষ্ট্র, বিদেশ এবং অর্থ মন্ত্রকের ক্যাবিনেট কমিটি সদস্যরা। উপস্থিত থাকবেন মন্ত্রিসভার কয়েকজন প্রবীণ মন্ত্রী ও। তবে মন্ত্রীদের তালিকা ১০ পেরোবে না বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।

একইরকমভাবে বিচারবভাগীয় ব্যবস্থা প্রতিনিধি হিসেবে ‌ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং শীর্ষ আদালতের হাতেগোনা কয়েকজন প্রবীণ আইনজীবী। আমলাদের আমন্ত্রণের ক্ষেত্রেও একই রকম ভাবে সংখ্যা রীতিমতো কাটছাঁট করা হয়েছে। গতবছর আমন্ত্রিত আমলার সংখ্যা ৭০ থাকলেও এই বছর সংখ্যাটা ১০ ছাড়াবে না। অর্থাৎ মন্ত্রিসভার সচিব এবং কয়েকজন সিনিয়র সচিব আমন্ত্রণ পাবেন ।

আমন্ত্রিতদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়াতেও‌ কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে লাইফ কাউন্টার না রাখার কথাই ভাবা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে অতিথিদের জন্য শুধুমাত্র ফুড প্যাকেট এবং জলের বোতল রাখা হবে বলে ভাবা হয়েছে।

প্রবেশ‌ দ্বারে অতিথিদের পরীক্ষা করে দেখে নেওয়া হবে জ্বর রয়েছে কিনা এবং ঠিকমতো মাস্ক রয়েছে কিনা । যদি কারো মাস্ক দেখে তা পর্যাপ্ত বলে না মনে হয় তখন তাকে এন৯৫ মাস্ক দেওয়া হবে। তাছাড়া প্রবেশের আগে অতিথিকে স্যানিটাইজ করা হবে।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও