নয়াদিল্লি: এ যেন রুপোলি পর্দাতে ঘটে চলা কোনও রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তের দৃশ্য! যেখানে খলনায়কের প্রতিটা ভুলের মাশুল দিতে হবে তাকেই৷ এ বলেই শাসাচ্ছেন ছবির নায়ক। সিনেমার চিত্রনাট্যটা যেন বাস্তবায়িত হল। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের গ্রেফতারির পর সোশাল মিডিয়ায় ইঙ্গিত সেরকমই৷

বুধবার প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর গ্রেফতারের পর থেকে সোশাল মিডিয়ায় ‘ভাইরাল’হয়েছে একটি ভিডিও৷ যেখানে দেখা যায় আজ থেকে পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০১৪ সালে রাজনৈতিক প্রচারে প্রথমবার নরেন্দ্র মোদী বলছিলেন, দেশ কে যারা লুট করছে, তার প্রতিটি কানাকড়ি বুঝিয়ে দিতে হবে দেশের মানুষকে। পরে আবারও ম্যায় ভি চৌকিদার নামক একটি অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীকে৷

পি চিদাম্বরমের গ্রেফতারিতে যেন মোদীর সেই বার্তা যে বাস্তাবায়িত হল৷ সোশায় মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার ভিডিওতে মোদীকে বলতে দেখা গিয়েছে ‘আমি ২০১৪ সালে যা বলেছিলাম, আজ আবারও বলছি দেশ কে যারা লুট করেছে দেশের মানুষের কাছে তার প্রতিটি কানাকড়ি বুঝিয়ে দিতে হবে৷ ২০১৪ সাল থেকে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ শুরু করেছিলাম। যদিও তৎকালীন সরকারের আধিকারিকরা সেই সরকারের হয়ে কাজ করলেও আমার কাজ আমি করে গিয়েছি৷ সেই সময় যারা ছিলেন তাদের জায়গায় অনেক নতুন লোক এসেছে৷ ফলে আমার কাজটা কিছুটা সহজ হয়েছে৷’

এছাড়া মোদী আরও বলেন,‘২০১৪ থেকে আপনাদের সহযোগিতাতে সেই সকল দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষদের জেলের পিছনে নিয়ে জেতে সক্ষম হয়েছি আমি৷ তাদের মধ্যে কয়েকজন জামিনে মুক্ত হয়েছে৷ আবার কয়েকজন জামিনের অপেক্ষায় রয়েছে। পুরনোদের জায়গাতে নতুন আসায় কাজের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে৷’

পাশাপাশি তিনি এও জানান, ২০১৪ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত আমি সেই সকল মানুষদের জেল এর দোরগোড়াতে আনতে পেরেছি৷ আর ২০১৯ এর পর তাদের জেলের ভেতরে ঢোকাতে পারব বলেও জানান মোদী। প্রধানমন্ত্রীর এই ভিডিওটি প্রথম শেয়ার করেন তাঁরই মন্ত্রীসভার সদস্য গিরিরাজ সিং। বুধবার অনেক টালবাহানার পর রাতে গ্রেফতার হন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম। সুপ্রিম কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পরেই সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার বরিষ্ঠ কংগ্রেস নেতা।

গ্রেফতারির ২৪ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত চিদাম্বরমের খোঁজ না-পাওয়া গেলেও আচমকাই তিনি কংগ্রেসের সদর দফতরে উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর এবং তাঁর ছেলের উপর আইএনএক্স মিডিয়ার যে অভিযোগ রয়েছে, তা মিথ্যা এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন চিদাম্বরম।