কলম্বো: সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে চায় ভারত৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এবারের বিদেশ সফর যেন সেই বার্তাই বারবার তুলে ধরছে৷ সন্ত্রাসের মোকাবিলায় কেন্দ্রের জিরো টলারেন্স নীতিকে হাতিয়ার করে প্রথমে মালদ্বীপ, তারপর শ্রীলঙ্কাতেও সেই বক্তব্যই তুলে ধরলেন মোদী৷ রবিবার শ্রীলঙ্কার প্রেসিজেন্ট মৈথিরিপলা সিরিসেনার সঙ্গে সাক্ষাতে সন্ত্রাসবাদকে দুদেশের জন্যই “joint threat” বা যৌথ হুমকি বলে ব্যাখ্যা করলেন নরেন্দ্র মোদী৷

এদিন ভারত ও শ্রীলঙ্কা দুদেশই একযোগে সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা করতে সম্মত হল৷ যৌথ বৈঠকের পর একটি ট্যুইট করেন মোদী৷ শ্রীলঙ্কার নিরাপদ ভবিষত্যের স্বার্থে কাজ করবে ভারত বলে আশ্বাস দিয়েছেন মোদী৷ প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার সঙ্গে কথা বলার পরে মোদী জানা সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ৷ যৌথ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ চলবে বলে জানানো হয়েছে এই দিন৷

বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রাভেশ কুমার এদিন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের সৌজন্য শ্রীলঙ্কা সরকারের পক্ষ থেকে খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করা হয়৷ এর তত্ত্বাবধানে ছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নিজে৷

এদিন শ্রীলঙ্কা সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ উপহার দেওয়া হয়৷ সমাধি বুদ্ধের এক মূর্তি হাতে তুলে দেওয়া হয় মোদীর৷ মোদীকে এদিন বিশেষ বন্ধু বলে সম্বোধন করেন সিরিসেনা৷ প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ট্যুইট করে জানানো হয় সমাধি বুদ্ধের আসল মূর্তিটি চতুর্থ ও সপ্তম শতকের মাঝামাঝি সময়ে তৈরি করা৷ অনুরাধাপুরা সময়ের অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন এটি৷

এদিন সিরিসেনার সঙ্গে সাক্ষাতের পর শ্রীলঙ্কার বিরোধী দলনেতা মাহিন্দা রাজাপাক্ষের সঙ্গেও সাক্ষাত করেন মোদী৷ দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে দুদেশের যৌথ সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা চলে৷

চলতি বছরের ২১ এপ্রিল৷ কলম্বোর তিন জায়গায় সিরিয়াল বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে৷ নিহত হন ৩৫জন বিদেশি সহ আড়াইশরও বেশি মানুষের৷ ২০০৯ সালে তামিল বিদ্রোহী সংগঠন লিবারেশন টাইগার্স অফ তামিল ইলম বা এলটিটিই খতম হয়ে গেছিল। এরপর এটাই সবচেয়ে বড় হামলা। প্রথম বিস্ফোরণ কলম্বোর কোচ্চিকড়েতে অবস্থিত সেন্ট অ্যান্টনী চার্চে হয়, এরপর তেগোম্বোর কটুওপিটিয়া অবস্থিত সেন্ট সেবাস্টিয়ান চার্চ এবং বট্রিটকলোয়ায় অবস্থিত চার্চে হয়। এছাড়া কলম্বোর ফাইভ স্টার হোটেল শাঙ্গরি লা, কিঙ্গসবেরী এবং সিনেমন গ্র্যান্ড-এও বিস্ফোরণ হয়৷

পরে সন্ত্রাসী এই হামলার দায় স্বীকার করে নেয় ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন আইএস৷ সংগঠনের মুখপত্রে বিবৃতি দিয়ে তারা জানায়, ‘‌এই রক্তাক্ত দিনটা আমাদের তরফে তোমাদেরকে উপহার’‌। বিস্ফোরণের ঘটনার পর গোটা শ্রীলঙ্কাজুড়েই নিরাপত্তার কড়াকড়ি করা হয়৷ আনাগোনা কমে যায় পর্যটকদের৷ বিভিন্ন দেশ থেকে শ্রীলঙ্কায় যেতে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়৷