নয়াদিল্লি: একে দেশজোড়া করোনার সংক্রমণ। তার উপর সীমান্তে আগ্রাসন চালাচ্ছে চিন। ইতিমধ্যে চিনের অর্থনীতিতে কোপ বসাতে শুরু করেছে ভারত। নিষিদ্ধ হয়েছে চিনা অ্যাপ, বন্ধ করা হচ্ছে চিনের একের পর এক ইনভেস্টমেন্ট। সব মিলিয়ে করোনা, লকডাউন, চিনা আগ্রাসন নিয়ে প্রতি মুহূর্তে জেরবার সরকার।

তবে এতসবের মধ্যেও দেশবাসীর জন্য রয়েছে সুখবর। শুক্রবার এশিয়ার বৃহত্তম ৭৫০-মেগাওয়াটের রেওয়া সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার সরকারি সূত্রে এই খবর জানানো হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের রিভা জেলায় অবস্থিত এই বৃহত্তম সৌরকেন্দ্রের শুভ সূচনা করবেন মোদী।

এই ‘রেওয়া আল্ট্রা সোলার পাওয়ার প্রকল্পটি’ মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলায় গড়ে তোলা হয়েছে।

এশিয়ার বৃহত্তম এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন ৭৫০মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে এবং এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে মোট খরচ হবে ৪,৫০০কোটি টাকা। প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির উপর এই প্রকল্পের ২৫০ মেগাওয়াটের তিনটি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদক ইউনিট রয়েছে।

আরও জানা গিয়েছে, এই সোলার পার্কটির উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের তরফে ১৩৮ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এই রেওয়া সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি হল দেশের মধ্যে সর্বপ্রথম সৌর প্রকল্প। ২০১৭ সাল পর‍্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে যেখানে প্রতি ইউনিটে সাড়ে ৪টাকা করে শুল্ক ধার্য করা হত সেখানে এই রেওয়া প্রকল্পটি ঐতিহাসিক সাফল্য লাভ করেছে। এই প্রকল্পের শুরুতেই প্রথম বছর শুল্ক ধার্য হয়েছিল প্রতি ইউনিটে ২টাকা ৯৭পয়সা এবং গত পনেরো বছর ধরে এর হার ০.০৫ থেকে বেড়ে ৩.৫০টাকা হয়েছে।

রেওয়া প্রকল্প থেকে উৎপন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রতিবছর প্রায় ১৫ লক্ষ টন কার্বনের হ্রাস ঘটাবে। আর এটিই হল ‘ক্লিন টেকনোলজি ফান্ড ইন্ডিয়ার’ তৈরি প্রথম সৌর প্রকল্প। এছারাও এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ‘পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী’,মধ্যপ্রদেশ এবং দিল্লির মেট্রোরেল কর্পোরেশন। আর এই সৌরকেন্দ্র থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে দিল্লি মেট্রোরেলে, ২৪ শতাংশ সরবরাহ করা হবে গণপরিবহনের মাধ্যমগুলিতে এবং বাকি বিদ্যুৎ অন্যান্য রাজ্যগুলিকে দেওয়া হবে।

এশিয়ার বৃহত্তম এই সৌরপ্রকল্পটি ‘ওয়ার্ল্ড ব্যাংক প্রেসিডেন্ট পুরস্কারও পেয়েছে।’ ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান সর্বপ্রথম এই প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তারপর থেকে ধীরেধীরে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়।

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব