ভুবনেশ্বর: নমো টিভি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্কের ঝড় উঠেছে। যদিও বিজেপির তরফে জানান হয়েছে, নমো টিভি শুধু মাত্র নরেন্দ্র মোদীর বার্তা বাহক, কোন পেশাদার সংবাদমাধ্যম নয়। বৃহস্পতিবার এই প্রসঙ্গেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে কড়া ভাষায় ব্যঙ্গ করেছে কংগ্রেস। বলছে, বিজেপির কার্যকলাপ ‘ বিরক্তিকর ‘। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কেবল ” টেলিভিশন ” আছে, কোন ভিশন নেই। রাহুল গান্ধীর দল মেনিফেসটো নিয়েও বিজেপিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি।

বিজেপির সমালোচনা করে তারা বলেছে, কেন্দ্রীয় সরকারের কোন অধিকার নেই জাতীয় নিরাপত্তায় আঘাত হানার। কারণ গত পাঁচ বছরে সন্ত্রাসী ঘটনা ২৬০% বেড়েছে দেশে। সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণ দেয়, নরেন্দ্র মোদীর কোন ভিসন নেই। কেবল টেলিভিশন আছে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সামনে কংগ্রেস মুখপাত্র প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদি অভিযোগ করে বলেছেন, মোদী সরকারের শাসনকালে ধনীরা ধনী হয়ে উঠছেন এবং গরীবরা আরও নিঃস্ব হয়ে চলেছে।

কিন্তু, কংগ্রেসের নির্বাচনী ইশতেহার কৃষকদের ন্যায়বিচার দেওয়ার কথা বলেছে। নারী, তরুণ, বেকার ও পীড়িত কথা বলেছে। ২০১৪ সালে বিজেপি যে ইশতেহার প্রকাশ করেছিল, সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ বিজেপি করে নি। বিজেপি নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষনের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিল, কৃষকদের দ্বিগুন আয় এবং বার্ষিক দুই কোটি চাকরি দেবার কথাও বলেছিল। কিন্তু পুরোপুরিভাবেই তা ব্যর্থ হয়েছে। এর একটাও পায় নি সাধারণ মানুষ।

প্রিয়াঙ্কা বলেন, জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে লম্বা লম্বা ভাষণ দেয় বিজেপি। কিন্তু ভারতের ইতিহাসে এর আগে কখনো কোন প্রধানমন্ত্রী অযাচিতভাবে পাকিস্তান সফরে যাননি। কিন্তু মোদী সেখানে বিনা আমন্ত্রণেই গিয়েছিলেন। বিরিয়ানি খেয়ে এসেছেন। পুলওয়ামার ঘটনাকে “সবচেয়ে বড় গোয়েন্দা ব্যর্থতা ” বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। বলেছেন, পাকিস্তানের আইএসআইকে এই ঘটনায় তদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভাল, জৈশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারকে মুক্তির ক্ষেত্রে সহায়ক ছিলেন। যা ক্ষমাহীন।

তিনি বলেন, ওদের (বিজেপি) আর আমাদের জাতীয়তাবাদ শেখানোর দরকার নেই। ইন্দিরা গান্ধী যিনি সাহসের সাথে শত্রুর ডেরায় ঢুকে আঘাত হানতে চাইতেন। কংগ্রেসের উপর সশস্ত্র বাহিনী (বিশেষ ক্ষমতা) আইনের আক্রমণ অর্থহীন ছিল। বিজেপিকে ‘ ভণ্ড ‘ দলের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করে চতুর্থবেদি বলেছেন, এটা পরিষ্কার তার দল এএফএসপিএ’ র কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের আগে কথাবার্তা পর্যালোচনা করা উচিৎ। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের সময় তিন জেলায় এএফএসপিএ প্রত্যাহার করা হয়। চতুর্থবেদি আরো অভিযোগ করেছেন, বিজেপি জম্মু ও কাশ্মীরে পিডিপির সাথে জোট করার জন্য এএফএসপিএ-কে প্রত্যাহারের কথা বলেছে। জিএসটির বিষয়েও কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে সরলীকরণ করা হবে এই করটির।