নয়াদিল্লি: অসুস্থ কিশোরীর জন্য অর্থ সাহায্য পাঠাালেন মানবিক প্রধানমন্ত্রী। মেয়ের চিকিৎসার বিপুল খরচ আর টানতে পারছিলেন না বাবা। তাই অসহায় হয়েই চিঠি লেখা মোদীকে। আর সঙ্গে সঙ্গে টাকার বন্দোবস্ত করে দিলেন নরেন্দ্র মোদী।

ললিত নামে ওই কিশোরী অপ্ল্যাস্টিক অ্যানিমিয়ার মত একটি মারণরোগে ভুগছে। তার সেরে ওঠার জন্য প্রচুর টাকা খরচ করতে হবে। ইতিমধ্যেই অনেক টাকা খরচ করেছে তার বাবা। কিন্তু আর পেরে ওঠা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই তিনি চিঠি লেখেন মোদীকে।

সুমের সিং নামে ওই ব্যক্তি জানান, ইতিমধ্যেই ৭ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন তিনি। জমি বিক্রি করে দিয়েছেন, বাড়িটাও বন্ধক দেওয়া রয়েছে। তাই আর টাকা কোথা থেকে জোগাড় হবে ভেবে পাচ্ছিলেন না। যদি মেয়েকে সুস্থ করা না যায়, তাহলে হয়ত তাঁকে মৃত্যুর পথ বেছে নিতে হবে বলেও জানান তিনি।

সেই চিঠি পেয়েই প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে টাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ন্যাশনাল রিলিফ ফান্ড থেকে ৩০ লক্ষ টাকার বন্দোবস্ত করে দেওয়া হয়েছে।

ওই ব্যক্তি আরও জানিয়েছেন যে, সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার জন্য মেয়ের বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে। অপারেশনেরই খরচ ১০ লক্ষ টাকা। আ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া হল এমন একটি রোগ যাতে শরীরের মধ্যে নতুন রক্তের কোষ তরি হওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে ইনফেকশনের সম্ভাবনা বেড়ে যায় ও অনিয়ন্ত্রিত রক্তক্ষরণ হতে থাকে।

শুধু মোদী নয়, সম্প্রতি চিকিৎসার জন্য এমনই মানবিক কাজ করেছেন তাঁর সরকারে আরও এক মন্ত্রী।

গুরুতর অসুস্থ এক মহিলাকে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে দিয়ছেন স্মৃতি ইরানি৷ শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিজের লোকসভা কেন্দ্র আমেঠি যান৷ পথে এক অসুস্থ মহিলাকে দেখে সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন৷ সব কিছু শোনার পর কনভয়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্সের চালককে নির্দেশ দেন দ্রুত ওই মহিলাকে যেন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷

শনিবার দু’দিনের জন্য আমেঠি আসেন স্মৃতি৷ লোকসভার ফল প্রকাশের পরই স্মৃতির ঘনিষ্ঠ সহযোগীর মৃত্যু হয়৷ খবর পেয়ে আমেঠি ছুটে এসেছিলেন তিনি৷ মৃত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ন্তকে নিয়ে এদিন ফের আসেন স্মৃতি৷ রাস্তায় এক অসুস্থ মহিলাকে দেখে কৌতুহল হয়৷ গাড়ি থেকে বেরিয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন৷

স্মৃতিকে দেখতে রাস্তায় লোকজনের ভিড় জমতে শুরু করে৷ অনেকে মোবাইলে ভিডিও রেকর্ডিং করেন৷ ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ওই মহিলাকে হাসপাতালে পাঠানোর জন্য তদারকি করছেন স্মৃতি৷ বাড়ির লোকদের দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় পরামর্শ৷ এরপর তাদেরই একজনকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘‘কোথায় যাবেন? জেলা হাসপাতালে?’’ পরক্ষণেই গাড়ির চালককে নির্দেশ দেন, ‘‘গৌরিগঞ্জ জেলা হাসপাতালে এদের নিয়ে যাও৷’’

লোকসভা ভোটের সময় ত্রাতার ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে৷ প্রয়াগরাজের কমলা নেহরু হাসপাতালে সঙ্কটজনক অবস্থায় ভরতি মেয়ের চিকিৎসার জন্য প্রিয়াঙ্কার সাহায্য চান বাবা-মা৷ প্রিয়াঙ্কার নির্দেশে চপারে করে মেয়েটিকে দিল্লির এইমস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷