নয়াদিল্লি: রাজ্যে রাজ্যে চলছে নির্বাচনী প্রচার৷ তারই মাঝে হেলিকপ্টারে ফণী বিধ্বস্ত ওডিশা ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ তার সঙ্গে ছিলেন ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক, রাজ্যপাল গণেশি লাল ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান৷

পুরী, পিপলি, কোনার্ক, নিমাপদা ও ভুবনেশ্বর ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী৷ এই এলাকাগুলিই সাইক্লোন ফণীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ প্রথমে ওডিসার রাজধানী ভুবনেশ্বরে সাইক্লোন ফণীর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী৷ সেখান থেকে ওডিশার এই এলাকাগুলি ঘুরে দেখেন আকাশপথে৷ এই এলাকাগুলি পরিদর্শনের পাশাপাশি ভুবনেশ্বরে ওডিশার ক্ষতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসেন৷

এই বৈঠকের পরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী৷ তিনি বলেন ওডিশা যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়৷ কিন্তু প্রশাসন হিসেবে ওডিশা দারুণ কাজ করেছে৷ যেভাবে দ্রুততার সঙ্গে প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে, তা প্রশংসাযোগ্য৷ রাজ্য প্রশাসন ফণী মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছে৷

এদিকে এদিনই কলাইকুণ্ডায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে ফণী নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয় ভোটের কারণে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে থাকতে পারবেন না রাজ্য সরকারের কোন প্রতিনিধি।

সম্প্রতি হওয়া সাইক্লোন ফণীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ওড়িশা। পশ্চিমবঙ্গেরও বেশ কিছু অংশে ফণীর প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাইক্লোন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ওড়িশা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ডাকা সেই বৈঠকে যোগ দিতে চাননি রাজ্যের কোনও প্রতিনিধি৷ তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় সামুদ্রিক ঘুর্ণী ঝড়ে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়ে জানতে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী৷ কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করার সৌজন্য দেখাননি মোদী।

এই অভিযোগের পরই পিএমও-র পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় তারা দুবার নবান্নে ফোন করে জানিয়েছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলতে চান। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকার কারণে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তারপরই বাংলার রাজ্যপালের সঙ্গে কথা বলে ফণী পরবর্তী অবস্থার খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য দুই দশকের মধ্যে ভারতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণী। সুপার সাইক্লোনের আঘাতে লন্ডভন্ড গোটা ওডিশা। ক্রমশ সেখানে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। মারাত্মক সাইক্লোনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩। আহত ৩০০ মানুষ। যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।

গত শুক্রবার সকালে ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার বাতাসের গতি নিয়ে ওডিশায় আছড়ে পড়ে ফণী। ফণীর আঘাতে প্রাদেশিক রাজধানী ভুবনেশ্বর এবং তীর্থ নগরী পুরী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।