বেঙ্গালুরু: শুক্রবার গভীর রাতে যখন চন্দ্রযানের চাঁদের মাটি স্পর্শ করার কথা, তখন সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে ইসরোতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যখন ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখনও বিজ্ঞানীদের পাশে থেকে উৎসাহ দেন মোদী।

এমনকি ইসরোর বিজ্ঞানীদের স্বপ্নভঙ্গের পর তাঁদের উজ্জীবিত করতে পরের দিন সকালেই ইসরোতে গিয়ে ভাষণ দেন মোদী। কিন্তু কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য মোদীই নাকি অপয়া। তাঁর যাওয়াটা ঠিক হয়নি। তাঁর জন্যই নাকি অভিযান ব্যর্থ হয়েছে ইসরোর।

বৃহস্পতিবার এমনই মন্তব্য করেছেন কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী। তাঁর মতে, মোদীর ইসরোতে যাওয়াটা বিজ্ঞানীদের জন্য ভালো লক্ষণ ছিল না। তাই এই সমস্যা।

এদিন কুমারস্বামী আরও বলেন, ‘বিজ্ঞানীরা রীতিমত কঠোর পরিশ্রম করেছে এই অভিযানের জন্য। গত ১০ বছর ধরে কাজ করছেন তাঁরা। ২০০৮-এ এই অভিযান সরকারের অনুমোদন পায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, ‘প্রধানমন্ত্রী এমনভাবে ইসরোতে গেলেন যেন তিনিই ওড়াচ্ছেন চন্দ্রযান-২।’ তিনি বলেন, ‘মোদীর ইসরোতে পা দেওয়ার মুহূর্তটা হয়ত বিজ্ঞানীদের জন্য খুব একটা ভালো লক্ষণ ছিল না।’

উল্লেখ্য, বিক্রমের অবস্থান খুঁজে বের করতে সাহায্য করবে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। বর্তমানে অরবিটারের সাহায্যে বিক্রমের অবস্থান বোঝার চেষ্টা করছে ইসরো। একইসঙ্গে এই মুহূর্তে চাঁদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে নাসার একটি অরবিটারও। সেই অরবিটারই এবার বিক্রমের অবস্থান খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে। বিক্রমের অবস্থান যেখান হওয়ার কথা, সেখানে পাঠানো হবে অরবিটারটিকে। নাসা সেই তথ্য পাঠাবে ইসরোকে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে নাসার একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিক্রম ল্যান্ডারের যেখানে অবস্থান হওয়ার কথা সেখানে যাবে নাসার অরবিটার। তাতে তোলা সব ছবি শেয়ার করা হবে ইসরোর সঙ্গে। তবে সূত্রের খবর, নাসা ইতিমধ্যেই বিক্রমকে খোঁজার জন্য ইসরোকে সাহায্য করতে শুরু করেছে।

আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো আগেই অভিনন্দন জানিয়েছে ইসরোকে। ট্যুইট করে সঙ্গে থাকার বার্তা দিয়েছে নাসা। তারা লিখেছে, ‘মহাকাশটা বড্ড কঠিন। তোমাদের পথচলা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আগামিদিনে সৌরজগতকে আরও বেশি আবিষ্কার করার সঙ্গী হতে পারি আমরা।’