কলকাতা: ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর রাজীব বলেছিলেন, ‘‘বড় গাছ মাটিতে পড়লে পৃথিবী কাঁপে’’৷ তাঁর এই বক্তব্যের পরই দেশে শিখদের উপর অত্যাচার নেমে আসে৷ হাজার হাজার শিখকে হত্যা করা হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে৷ এরপর দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন রাজীব গান্ধী৷ যে সব কংগ্রেসী কার্যকর্তারা শিখ হত্যার সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন তারা কংগ্রেসে ভালে পদ পায়৷ একজন তো এখন(কমলনাথ) মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী৷ টাইমস নাউ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এভাবেই স্টেপ আউট করে স্বাধী প্রজ্ঞার টিকিট পাওয়া সংক্রান্ত বল মাঠের বাইরে ছুঁড়ে ফেললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷

ভোপাল লোকসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের দ্বিগবিজয় সিংহের বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী হয়েছে স্বাধী প্রজ্ঞা৷ মালেগাঁও ট্রেন এবং আজমের দরগার সামনে বিস্ফোরণে অভিযুক্ত ছিলেন স্বাধী প্রজ্ঞা ওরফে প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর৷ কংগ্রেসী আমলে এই দুই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে বেশ কয়েকবছর জেলও খাটতে হয়েছিল স্বাধ্বীকে৷ সম্প্রতি এনআইয়ের কাছ থেকে ক্লিনচিট পাওয়ার পর আপাতত জামিনে মুক্ত রয়েছেন স্বাধ্বী৷ বিস্ফোরণে অভিযুক্ত জামিনে মুক্ত একজনকে কীভাবে বিজেপির টিকিট পায়?

স্বাধ্বীর টিকিট পাওয়ার পর থেকেই এই প্রশ্ন তুলে আসছে কংগ্রেস৷ এর জবাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘‘আমেঠি এবং রায়বেরলির কংগ্রেসী প্রার্থী জামিনে মুক্ত রয়েছেন এবং ভোট লড়ছেন৷ সেখানে ভোপাল থেকে জামিনে মুক্ত প্রার্থী লড়াই করলে কংগ্রেস প্রশ্ন তোলে৷ এভাবে একজন সন্ন্যাসিনীকে হেনস্থা করা হচ্ছে৷ ’’

স্বাধ্বীর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বক্তব্য, কংগ্রেস আগে থেকেই সব কিছু পরিকল্পনা করে রাখে৷ সমঝোতা কাণ্ডে কী হল? শেষ পর্যন্ত কিছুই প্রমাণিত হয়নি৷ বিচারপতি লোয়ার মৃত্যুতেও কোনও রহস্য ছিল না৷ কিন্তু কংগ্রেস বলল তাঁকে নাকি খুন করা হয়েছে৷

কংগ্রেস আসলে সিনেমার স্ক্রিপ্ট লিখে রাখে৷ এক জন খলনায়ক, এক জন নায়ক থাকে সেই স্ক্রিপ্টে৷ তার পর নিজেদের মতো করে ছবির গল্প সাজায় ওরা৷ ২৬/১১-র জঙ্গি হামলার প্রসঙ্গ টেনে আনেন মোদী বলেন, ওই হামলার পরেও পাকিস্তানকে সাজা দেওয়ার বদলে হিন্দুদের ফাঁসানোর চক্রান্ত করা হয়েছিল৷ ভোটভক্তির রাজনীতি করে বলেই কংগ্রেস এই ষড়যন্ত্র করেছিল৷