নয়াদিল্লি: ২০১৫ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মোট ৫৮ টি দেশে সফর করেছেন। যার জন্য মোট খরচ হয়েছে ৫১৭ কোটি টাকা। মঙ্গলবার একটি প্রশ্নের উত্তরে লিখিত ভাবে সরকারি ভাবে একথা জানানো হয়েছে।

বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ভি মুরলীধরণ জানান, ২০১৫ সালের পর ৫ বার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ায় গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই দুই দেশেই সবচেয়ে বেশিবার গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। এছাড়া মোদী চিনেও ৫ বার গিয়েছেন বলে জানান তিনি।

এই চিন, আমেরিকা ও রাশিয়া ছাড়া প্রধানমন্ত্রী মোদী অন্য যে রাষ্ট্রগুলি ঘুরেছেন তার মধ্যে রয়েছে জার্মানি, ফ্রান্স, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং শ্রীলঙ্কা সহ আরও অন্যান্য দেশ।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই একটি রিপোর্টে উল্লেখ করেছে, ভি মুরলীধরণ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মোট ব্যয় হয়েছে ৫১৭ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা। এই সফরগুলির মধ্যে কখনও একসঙ্গে একাধিক দেশে গিয়েছেন। আবার কয়েকটি ছিল দ্বিপাক্ষিক সফরও।

প্রধানমন্ত্রী শেষবার বিদেশ সফর করেছেন গত বছরের নভেম্বর মাসে। ব্রাজিলে ব্রিক্সের সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি। ওই মাসের শুরুতে থাইল্যান্ড সফরেও গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর করোনার জেরে বিশ্বব্যাপী লকডাউন হয়ে যাওয়ায় ২০২০ সালে কোনও সফর করেননি প্রধানমন্ত্রী মোদী।

বিদেশমন্ত্রকের মন্ত্রী সংসদে জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরগুলির ফলে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বিশ্বের নানান ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে অন্য দেশের সুসম্পর্ক বেড়েছে। পাশাপাশি তাঁর দাবি, এই সফরগুলির ফলে, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক, তথ্যপ্রযুক্তি, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে যৌথ উদ্যোগে অনেক কাজও শুরু হয়েছে। এরফলে ভারতে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছে বলেও জানান ভি মুরলীধরণ।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে কেন্দ্র জানিয়েছিল, ২০১৪ সালের জুন থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে খরচ হয়েছিল ২০০০ কোটি টাকা। অবশ্য ওই সব সফরের সঙ্গে বিমান ভাড়া করার খরচ, বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের খরচ ও হোটেলের খরচও ধরা ছিল।

প্রসঙ্গত, গত বছরের নির্বাচনের আগে মোদীর বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে সরব হয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। কৃষি ক্ষেত্রে সংকটের মধ্যেও বিদেশ সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছিলেন সনিয়া পুত্র। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে জয়লাভ করে বিজেপি। আরও পাঁচ বছর প্রধানমন্ত্রীর পদ নিশ্চিত করেন নরেন্দ্র মোদী।

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।