নয়াদিল্লি : করোনায় কাবু গোটাদেশ(India)। দিন যত যাচ্ছে ততই ভয়ংকর হচ্ছে দেশের করোনা পরিস্থিতি। দৈনিক সংক্রমণে প্রতিদিনই নিজের রেকর্ড ভাঙছে অদৃশ্য এই ব্যাধি। অতিমারীর দাপটে বিপর্যস্ত জনজীবন। এই অবস্থায় চার রাজ্যের করোনা পরিস্থিতির খবর জানতে সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের (Chief Minister) ফোন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Prime Minister)।

তবে এই ফোন কল পেলেন না পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। যদিও দেশের স্বাস্থ্য সচিব অত্রি আহুজা সম্প্রতি দেশের যে সব রাজ্যে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহভাবে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন, সেই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের নামও তিনি জানিয়েছেন। তা ছাড়াও কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মতে দেশের মধ্যে সংক্রমণের নিরিখে চতুর্থ স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। তাহলে প্রধানমন্ত্রী কেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি জানতে চাইলেন না? প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়ে।

এদিন তিনি করোনা পরিস্থিতির খবর জানতে মোট চার রাজ্যের ( Four States) মুখ্যমন্ত্রীদের ফোন করেছেন। এই চারটি রাজ্য হল, তামিলনাড়ু (Tamilnadu),অন্ধ্রপ্রদেশ (Andhrapradesh) , হিমাচল প্রদেশ (Himachal pradesh) এবং মধ্যপ্রদেশ (Madhyapradesh)৷

যেহেতু দেশের পাঁচ ছয়টি রাজ্যেই বেশি করোনা সংক্রমণ ছড়াচ্ছে সেহেতু এই রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তাঁদের জন্য রাজ্যের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে সংক্রমণের গ্রাফচিত্রে প্রথম দিন থেকেই ঊর্ধ্বগামী মহারাষ্ট্র (Maharashtra)৷ প্রতিদিনই সেখানে হু হু করে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। এই অবস্থায় গত চব্বিশ ঘণ্টায় মহারাষ্ট্রে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৫৪,০০২ জন। একই দিনে মারা গিয়েছেন ৮৯৮ জন।

এদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্যানুযায়ী মহারাষ্ট্র ছাড়াও আরও মোট দশটি রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সংক্রামিত রোগীর অন্তত ৭২ শতাংশ ধরা পড়ছে এই রাজ্যগুলি থেকে।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ফোন করেছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান ও হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) জয়রাম ঠাকুরকে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হওয়ার পর টুইটে জয়রাম ঠাকুর (,Jayram Thakur) জানিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অক্সিজেন, হাসপাতালের শয্যা ও টিকাকরণ সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রদেশে (Madhyapradesh) গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৭০৮ জন। প্রাণ হারিয়েছেন ৮৪ জন। অন্যদিকে হিমাচলে স্রেফ একদিনে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ১৭৭ জন। করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫৬ জন।

এদিকে দেশের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত তিনদিনে দশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে এবং রাজ্যপালদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, করোনা পরিস্থিতিতে দেশের সামরিক বাহিনীর সঙ্গেও বৈঠক করেছেন মোদী।

অন্যদিকে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে রীতিমতো বেসামাল দেশ। কোনওভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছে না সংক্রমণে। মাঝে কিছুদিন গ্রাফ নিম্নমুখী থাকলেও ফের তা চড়চড় করে বাড়ছে। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ফের পেরিয়েছে ৪ লক্ষ। শনিবারও তার ব্যতিক্রম হল না। পরপর দুদিন চার লক্ষের বেশিই রইল আক্রান্তের সংখ্যা। তবে এদিন মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। এই প্রথম ৪ হাজারের বেশি দৈনিক করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হল দেশে।

শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গোটা দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৪ লক্ষ ১ হাজার ৭৮ জন। শুক্রবারের থেকে আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কম। শুক্রবার ৪ লক্ষ ১৪ হাজার ১৮৮ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছিল। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ১৮৭ জনের। এই প্রথম দেশে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ৪ হাজার টপকালো। শুক্রবার ৩ হাজার ৯১৫ জন করোনার বলি হয়েছিলেন। মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি কমেছে দৈনিক সুস্থতার হার। যেখানে শুক্রবার সুস্থ হয়েছিলেন ৩ লক্ষ ৩১ হাজার ৫০৭ জন, সেখানে শনিবার ৩ লক্ষ ১৮ হাজার ৬০৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সুস্থতার হার কমে যাওয়ার স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে চিন্তা। এই মুহূর্তে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ১৮ লক্ষ ৯২ হাজার ৬৭৬ জন। সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৭ লক্ষ ২৩ হাজার ৪৪৬ জন। এখনও পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ৭৯ লক্ষ ৩০ হাজার ৯৬০ জন। দেশের করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ২ লক্ষ ৩৪ হাজার ২৭০ জনের। মোট ১৬ কোটি ৭৩ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৪৪ জনকে এখনও পর্যন্ত ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.