কল্যানী: প্রথম ম্যাচের নিরিখে আইজল থেকে এক পয়েন্ট খুব একটা মন্দ ছিল না। কিন্তু আই লিগের দ্বিতীয় ম্যাচেই বেরিয়ে পড়ল দলের কঙ্কালসার চেহারাটা। ঘরের মাঠে মোহনবাগানকে মাটি ধরালেন ময়দানের প্রাক্তনী উইলিস প্লাজা। তাঁর জোড়া গোলের সৌজন্যে কল্যানীতে কিবু ভিকুনার মোহনবাগানকে ৪-২ গোলে হারাল গোয়া জায়ান্টরা।

‘যেখানে বাঘের ভয়, সেখানে সন্ধে হয়’। ম্যাচের আগে গত আই লিগের যুগ্ম সর্বোচ্চ গোলদাতাকে নিয়ে বাড়তি সতর্ক ছিল কিবুর রক্ষণ। কলকাতায় এসে প্লাজা নিজেও গোলের হুঙ্কার ছেড়েছিলেন। রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় সেই প্লাজাই ফালা-ফালা করে দিলেন বাগানের রক্ষণ। বিপক্ষ রক্ষণে স্বদেশী ড্যানিয়েল সাইরাসকে এদিন কোনওরকম রেয়াত করার পক্ষপাতী ছিলেন প্লাজা। বরং প্রথম ম্যাচে গোলের পর দ্বিতীয় ম্যাচে জোড়া গোল করে যেন জানান দিয়ে গেলেন গতবার সর্বোচ্চ গোলস্কোরার হওয়াটা কোনরকম ফ্লুক ছিল না।

ম্যাচের বয়স তখন ২ মিনিট। দীর্ঘদেহী মার্কার সাইরাসের মার্কিং টপকে দাওদা সিসের ঠিকানা লেখা ক্রস দুরন্ত হেডারে জালে রাখেন ত্রিনিদাদ-টোব্যাগোর স্ট্রাইকার। এক্ষেত্রে গোলরক্ষক দেবজিতের পজিশনকেও দায়ী করা যায় অনেকাংশে। শুরুতেই গোল খেয়ে কিছুটা হতভম্ব হয়ে পড়ে মোহনবাগান। তবে রক্ষণ সংগঠিত করে ধীরে ধীরে আক্রমণের রাস্তায় হাটে তাঁরা। ফ্রান গঞ্জালেসের দুরন্ত প্রচেষ্টা ততোধিক ক্ষিপ্রতায় রক্ষা করেন চার্চিল দুর্গের শেষ প্রহরী জাফর মন্ডল। ফিরতি বল থেকে ভিপি সুহেরের শট আটকে ফের চার্চিলের ত্রাতা হয়ে ওঠেন জাফর।

ঠিক এমন সময় খেলার গতির কিছুটা বিরুদ্ধেই দ্বিতীয় গোল তুলে নেয় চার্চিল। ২৮ মিনিটে সিসের কর্নার থেকে ড্রপ হেডারে গোল করে যান রবার্ট জুনিয়র। এক্ষেত্রেও নীরব দর্শক দেবজিতের পজিশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অমূলক নয়। যদিও ৩৬ মিনিটে লাইফলাইন পায় বাগান। বক্সের মধ্যে নাওরেমকে ট্রিপ করলে পেনাল্টি পায় সবুজ-মেরুন। পেনাল্টি থেকে ব্যবধান কমাতে ভুল করেননি ফ্রান গঞ্জালেস। কিন্তু চরম মুহূর্তে তিনকাঠির নীচে ক্ষমার অযোগ্য ভুল করে বসেন দেবজিত।

৩৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে প্লাজার শট শিক্ষানবিশী ঢং’য়ে ফসকে বিপক্ষকে গোল উপহার দেন দেবজিত। ম্যাচের ললাটলিখন কার্যত স্পষ্ট হয়ে যায় ওখানেই। প্রথমার্ধেই তিন গোল হজম করে দমে যাওয়া বাগান রক্ষণ দ্বিতীয়ার্ধে ৭৬ মিনিটে হজম করে চতুর্থ গোলটি। ইসরায়েল গুরুং’য়ের কর্নার প্রাথমিকভাবে প্রতিহত হলেও পালটা বল ধরে বক্সে সেন্টার করেন গুরুং। সেন্টার থেকে বাগানের রক্ষণের জাল ভেঙে চতুর্থ গোলটি করে যান আবু বাকর।

৯০ মিনিটে পরিবর্ত শুভ ঘোষ বাগানের হয়ে দ্বিতীয় গোল করলেও তা যথেষ্ট ছিল না কোনভাবেই। ফলে ঘরের মাঠে মাথা নীচু করেই মাঠ ছাড়তে হয় কিবু ভিকুনার দলকে। অন্যদিকে হুঙ্কারকে বাস্তব রূপ দিয়ে চার্চিলের তিন পয়েন্টের নায়ক হয়ে ওঠেন প্লাজা।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও