গোয়া: শনিবাসরীয় ফতোরদায় ইস্টবেঙ্গলের প্রতিপক্ষ যত না ছিল চার্চিল ব্রাদার্স, তার চেয়ে বোধহয় অনেক বেশি ছিল বিপক্ষের আপফ্রন্টে ক্লাবের প্রাক্তনী উইলিজ প্লাজা। ইস্টবেঙ্গলে থাকাকালীন শেষের সময়টা প্রায় গোল করতে ভুলেছিলেন ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোব্যাগোর জাতীয় দলের স্ট্রাইকার। আর জার্সি বদলে চার্চিল ব্রাদার্সে যাওয়ার পর যেন ততোটাই ভয়ঙ্কর প্লাজা। গত মরশুমে আই লিগের জোড়া সাক্ষাতেই লাল-হলুদের জালে বল জড়িয়েছিলেন তিনি। শনিবার ফতোরদাতেও বদলালো না অভ্যাসটা। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে প্লাজার হেডেই মান্ডবীর তীরে চলতি আই লিগে প্রথম হারের মুখ দেখল ইস্টবেঙ্গল।

ট্রাউ ম্যাচের একাদশে এদিন চারটি পরিবর্তন এনে দল সাজিয়েছিলেন লাল-হলুদের স্প্যানিশ বস। আশির আখতার, পিন্টু মাহাতা, সামাদ আলি মল্লিক ও রোনাল্ডো অলিভিয়েরার পরিবর্তে ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশে এদিন শুরু করেন মেহতাব সিং, অভিজিৎ সরকার, লালরিনডিকা রালতে ও হাইমে স্যান্টোস কোলাডো। তিন সপ্তাহ পর প্রতিযোগীতামূলক স্তরে খেলতে নেমে এদিন ম্যাচের শুরুতে নিষ্প্রভ লাল-হলুদের আক্রমণভাগ তেমন কোনও আঘাত হানতে পারেনি বিপক্ষ রক্ষণভাগে।

তবে ২৪ মিনিটে কোলাডোর থ্রু-বল ধরে স্প্যানিশ মিডিও জুয়ান মেরার বাঁ-পায়ের শট ক্রসবারে প্রতিহত না হলে ম্যাচে লিড নিতে পারত লাল-হলুদ। কিছু সময় বাদে চলতি আই লিগে প্রথমবারের জন্য মাঠে নামা অধিনায়ক লালরিনডিকার কর্নারে মাথা ছুঁইয়ে মেহতাব জালে বল রাখলেও ফাউলের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। তবে দু-একটি বিক্ষিপ্ত আক্রমণ ছাড়া কখনোই ইস্টবেঙ্গল আক্রমণভাগকে দেখে জমাট মনে হয়নি এদিন। এসপাদা মার্টিনও নিষ্প্রভই রইলেন প্রথমার্ধ জুড়ে। ঘরের মাঠে সেভাবে ইতিবাচক সুযোগ তৈরিতে ব্যর্থ চার্চিলও। তবে প্লাজা নিশানায় অব্যর্থ থাকলে প্রথমার্ধে এক গোলে এগিয়ে থেকে মাঠ ছাড়তে পারত বার্নার্দো তাবারেসের ছেলেরা।

যাইহোক প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ায় দু’দলই। জোড়া গোলের সুযোগ নষ্ট করেন প্লাজা। একটি ক্ষেত্রে কমলপ্রীত সিং ও আরেকটি ক্ষেত্রে গোলরক্ষক রালতে ইস্টবেঙ্গলের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান। উল্টোদিকে কোলাডোর ক্রস থেকে লাল-হলুদ অধিনায়ক লালরিনডিকার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। মার্তি ক্রেসপির দূরপাল্লার একটি শট শূন্যে শরীর ছুঁড়ে দিয়ে রক্ষা করেন চার্চিল গোলরক্ষক জাফর মন্ডল। শেষদিকে একটি ক্ষেত্রে বড়লোকের বাউন্ডুলে ছেলের মতো হেলায় সুযোগ নষ্ট করেন এসপাদা মার্টিন।

সবমিলিয়ে খেলা যখন নির্বিষ ড্র’য়ের দিকে এগোচ্ছে ঠিক তখনই ফের ঝলসে ওঠেন প্লাজা। পরিবর্ত ইসরায়েল গুরুং’য়ের বাঁ-প্রান্তিক সেন্টারে মার্কারকে এড়িয়ে হেড করে যান ত্রিনিদাদ স্ট্রাইকার। প্লাজার হেডেই তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হয় চার্চিলের। একইসঙ্গে ৪ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে লিগের শীর্ষস্থান দখল করে নেয় গোয়ার দলটি। অন্যদিকে চলতি আই লিগে প্রথম হারের স্বাদ পেয়ে লিগ টেবিলে অবনমন হয় ইস্টবেঙ্গলের। ৫ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিতে আপাতত তিন নম্বরে তাঁরা।