মানব গুহ, কলকাতা: চিরঘুমের দেশে চলে গেলেন পৃথিবীকে সাবালক করা হিউজ হেফনার৷ বিদায় নিলেন প্লেবয় ম্যাগাজিনের সৃষ্টিকর্তা৷ প্লেবয়, একটা নামেই পঞ্চাশ দশকের শেষের দিক থেকে আজ পর্যন্ত মজে আছেন বিশ্ববাসী৷ লজ্জা ভেঙে যৌনতাকে বিশ্বের দরবারে প্রকাশ্যে হাজির করেই বিখ্যাত হয়ে গেছেন তিনি৷ লাস্যময়ী সুন্দরীদের ভীড়ে চিরউজ্জ্বল ছিলেন হিউজ হেফনার৷ বিশ্বের প্লেবয় চলে গেলেন বিশ্বজুড়ে তাঁর সৃষ্টি রেখে।

১৯২৬ সালের ৯ এপ্রিল, শিকাগোর ইলিনোয়িস এ এক রক্ষণশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন হিউজ হেফনার৷ মা গ্রেস ক্যারোলিন ও বাবা গ্লেন হেফনার দুজনাই ছিলেন পেশায় শিক্ষক৷ স্কুল জীবন শেষ করার পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৪৪ থেকে ১৯৪৬ হিউজ হেফনার আমেরিকার মিলিটারি নিউজ পেপারে কপি লিখতেন৷ সাইকোলজি নিয়ে বিএ পাশ করেন তিনি৷ তাই হয়তো মানুষের মনের চাহিদার বিশেষজ্ঞ হয়েছিলেন৷

১৯৫২ সালে, Esquire নামের একটি কাগজে কপি রাইটারের কাজ দিয়ে জীবন শুরু করেন তিনি৷ ৫ ডলার মাইনে না বাড়ানোয় তিনি ওই কাগজের চাকরী ছেড়ে দেন৷ তারপর ১৯৫৩ সালে, ৬০০ ডলার ব্যাঙ্ক লোন নিয়ে এবং ৪৫ জনের কাছে ৮০০০ ডলার নিয়ে শুরু করলেন Stag Party নামে একটি ম্যাগাজিন৷ এর মধ্যে ছেলের ক্ষমতাকে বিশ্বাস করে তার মাও ১০০০ ডলার দিয়েছিলেন৷ পরে Stag Party র বদলে নাম ঠিক হয় Playboy ম্যাগাজিন৷ ১৯৫৩ সালের ডিসেম্বরে প্রথম সংখ্যা বেরোল Playboy এর৷ শুরুতেই হিট৷

প্রথমেই মেরিলিন মনরোর মন উঠালপাথাল করা নগ্ন ছবি দিয়ে বেরোল হিউজ হেফনারের প্রথম ম্যাগাজিন প্লেবয়৷ বিক্রি হল ৫০ হাজার কপি৷ আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় নি তাঁকে৷ তারপর থেকেই জীবনে শুধু সাফল্য৷ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পরল তাঁর প্লেবয়৷ লাস্যময়ী সুন্দরীদের দেখতে হটকেকের মত বিক্রী হতে লাগলো প্লেবয়৷ প্লেবয়ের ন্যুড মডেল হতে হলিউডের সুন্দরী নায়িকাদের লাইন পরে যেত৷ বিতর্কও তাড়া করতে লাগলো তাঁকে৷ ১৯৬৩ সালের জুনে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় প্লেবয় ম্যাগাজিনে অশ্লীল লেখার জন্য৷ তাতে তাঁর সুবিধাই হল৷ আরও বিক্রী বেড়ে গেল প্লেবয়ের৷ যেন এক ঝটকায় বিশ্ববাসীকে সাবালক করে দিলেন হিউজ হেফনার৷

২০১০ এ তাকে নিয়ে ডকুমেন্টরী ফিল্ম করলেন ব্রিজিট বারম্যান, Huge Hefner, Playboy, Activist And Rebel৷ হাঁ, রেবেল মানে বিপ্লবীই তো৷ ঘোমটার নিচে বন্ধ রাখা মানুষের সেক্স লাইফের উন্মদনাকে এক ঝটকায় প্রকাশ্যে আনার সাহস যিনি দেখান তাঁকে তো বিপ্লবী বলতেই হবে৷ স্বপ্নের নায়িকাদের নগ্ন ফটো দেখিয়ে মানুষকে উত্তেজনায় পাগল করে দেবার প্রকাশ্য চিন্তাভাবনাকে বিপ্লব তো বলতেই হবে৷ কেউ পছন্দ করুক আর নাই করুক৷ যৌন জীবনের ঢাক গুড়গুড় ব্যাপারটাই একদম উধাও করে দিলেন তিনি৷

১৯৫৯ থেকে ১৯৬০ পর্যন্ত তার টিভি শো Playboy Penthouse ও ১৯৬৯ থেকে ১৯৭০ তার টিভি শো Playboy After Dark খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছেছিল৷ TRP কোথায় যেতে পারে তা এই দুটো টিভি শো দেখিযে দিয়েছিল। এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে প্লেবয় পর্ণ ভিডিওর পথ চলা। হটকেকের মত প্লেবয়ের পর্ণ ভিডিও বিক্রী হতে থাকল।  বিশ্বে পর্ণ জগতের একছত্র রাজা হলেন হিউজ হেফনার।

লাস্যময় জীবন, নাইট পার্টি, হলিউডি নায়িকেদের একের পর এক প্রেম। কি ছিল না জীবনে।  বিশ্বের পুরুষদের স্বপ্নের নায়ক হয়ে উঠলেন রক্ষণশীল পরিবার থেকে উঠে আসা হেফনার। একসঙ্গে একই সময়ে ৭ জন হলিউডের নায়িকার সঙ্গে প্রেম করার বিরল কৃতিত্ব আছে তাঁর। তার রঙীন জীবনকে হিংসা করতেন হলিউডের বিখ্যাত নায়করাও।  তাঁর তৈরী করা প্লেবয় ম্যানসনে থাকার জন্য সেক্সী নায়িকাদের আগ্রহ ছিল দেখার মতন। প্লেবয় প্লেমেট হবার জন্য নায়িকাদের উতসাহ ছিল চোখে পরার মত।   বিয়ে, বিচ্ছেদ, ডেটিং আবার বিয়ে হেফনারের জীবনটাই যেন ছিল একটা সেক্সী রূপকথার গল্প।
২০১২ তেই হিউজ হেফনার ঘোষনা করেন তাঁর ছোট ছেলে কুপারই হবেন প্লেবয়ের মুখ। ২০১৭ র ২৭ শে সেপ্টেম্বর ৯১ বছর বয়সে তিনি মারা গেলেন লস অ্যাঞ্জেলস এ। সৃষ্টিকর্তা চলে গেলেও আজও বিশ্বজুড়ে নতুন জেনারেশনের হাইফাই মোবাইলে চলছে প্লেবয় পর্ণ ভিডিও। চিরতরে চোখ বুজলেন বিশ্বের সেরা প্লেবয়, তবে সৃষ্টির শেষ পর্যন্ত থেকে যাবে তাঁর গোপন প্রকাশ্যে আনার চিন্তাভাবনা। পুরুষের ফ্যান্টাসির সৃষ্টিকর্তা অমর হয়ে থাকবেন চিরদিনের জন্য।