হাওড়া: একটা সময় ছিল যখন শৈশবের খেলনা বলতে কাগজের তৈরি উড়োজাহাজ, নৌকা, লম্বা লাঠি লাগানো হেলিকপ্টার, মাটির চাকা দেওয়া টমটম গাড়ি, তালপাতার সেপাই, মোমের পুতুল সহ আরও কত কি ছিল। কিন্তু আজ এই খেলনাগুলোতে শিশুদের ঝোঁক প্রায় নেই বললেই চলে। হাতে মোবাইল পেলেই তাঁরা খুশি। যুগের হওয়ায় একা শহরে শৈশবের একাকী হয়ে ওঠার ছবিই এবার দেখা যাবে হাওড়ার ‘স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি সংসদ’ এর মণ্ডপে।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ক্রমশ গ্রাস করছে বর্তমান শৈশবকে। যতদিন যাচ্ছে মোবাইলে আসক্তি বাড়ছে বাচ্ছাদের। শৈশবে যা এককথায় অভিশাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দুর্গাপুজোর মধ্যে দিয়ে সেই উদ্বেগের কথাই তুলে ধরছে হাওড়ার এই পুজো। এবছর তাদের থিম ‘শৈশবে ফিরে দেখা’।

গোটা মণ্ডপকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একদম বাইরের অংশে থাকবে বাংলার বিভিন্ন পার্বণ উপলক্ষে মেলায় বিক্রি হওয়া খেলনা। দ্বিতীয় অংশে দেখা যাবে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিকের ছাঁচের তৈরি খেলনা, তৃতীয় অংশে থাকবে হাতে তৈরি খেলনা। মণ্ডপ পুরোটাই সেজে উঠবে ইন্সটলেশনের মাধ্যমে। মণ্ডপের সামনে থাকবে একটি বায়স্কোপ। ওই বায়স্কোপের মাধ্যমেই সদ্য ত্রিশ পেরোনোরা বা পঞ্চাশের কোঠায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ ফিরে যেতে পারবে তাঁর ফেলে আসা শৈশবে। আর আজকের ছোটরা জানবে কিছু অযান্ত্রিক খেলাকে। এই পুরো ভাবনাই শিল্পী সুমন নন্দী ও অভিজিৎ মণ্ডলের।

মণ্ডপ তৈরিতে তালপাতার সেপাই , ড্যাংগুলি, লাট্টু, গুলি , লুডো,প্লাস্টিকের পুতুল , গাড়ি , খেলনা বাটি, হাতে তৈরি খেলনা – কাগজের উড়োজাহাজ, নৌকা, পাখি , ঘুড়ি ইত্যাদি ব্যবহার করা হচ্ছে।

পুজো উদ্যোক্তাদের কথায়, মোবাইলের দাপটে সব খেলনা যেমন হারিয়ে যাচ্ছে তেমন শৈশবও বিপন্ন। এই অভিশাপ থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচানোর দায়িত্ব আমাদের বড়দেরই। এই বার্তাই আমরা দিতে চাইছি।