প্যারিস: অবৈধ উপায়ে কাতারকে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন মিশেল প্লাতিনি। মঙ্গলবার ফ্রান্সের দুর্নীতিদমন শাখার পুলিশ ‘কাতারগেট’ কান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতার করে প্রাক্তন কিংবদন্তিকে। ঠিক কী উপায়ে কাতারকে ২০২২ বিশ্বকাপের দায়িত্ব পাইয়ে দিয়েছিলেন প্রাক্তন ফিফা ভাইস প্রেসিডেন্ট, মূলত সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই এদিন গ্রেফতার করা হয় প্লাতিনিকে।

প্লাতিনির গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল ছড়িয়ে পড়ে ফুটবল মহলে। এক ফরাসি ওয়েবসাইটের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রাক্তন কিংবদন্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নঁতেরের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বছর চারেক আগে ফিফা সভাপতি শেপ ব্লাটারের পদত্যাগের পর উত্তরাধিকারী হিসেবে ফিফা সভাপতি পদে আসীন হয়েছিলেন তৎকালীন ইউরোপীয়ান ফুটবলের সর্বময় কর্তা মিশেল প্লাতিনি। উয়েফা প্রেসিডেন্ট পদ সামলানোর পাশাপাশি কয়েকমাসের জন্য ফিফা প্রেসিডেন্টের পদও সামাল দিয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: ৮৩’র আজকের দিনেই ভারতীয় ক্রিকেটকে নতুন দিশা দিয়েছিলেন কপিল

২০১৫ শেষের দিকে ফিফার এথিক্স কমিটি ব্লাটারের পাশাপাশি প্লাতিনিকেও আর্থিক দুর্নীতির কারণে ফুটবল সংক্রান্ত যে কোনও দায়িত্ব থেকে ৮ বছরের জন্য অব্যাহতি দেয়। ২০১১ উয়েফা প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শেপ ব্লাটারের থেকে ২ মিলিয়ন ডলার ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ফরাসি কিংবদন্তির বিরুদ্ধে। পুরো বিষয়টি কাতারকে বিশ্বকাপ পাইয়ে দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে মনে করা হয়। পরে যদিও প্লাতিনির সেই শাস্তির মেয়াদ ৪ বছর কমিয়ে আনে ফিফা। যা শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামী অক্টোবরে। কিন্তু ২০১০ দুর্নীতির সাহায্য নিয়ে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা জাপানের মতো দেশগুলিকে পিছনে ফেলে মরু দেশ কাতারকে বিশ্বকাপ আয়োজক হিসেবে ঘোষণা করার বিষয়ে তদন্ত চলতে থাকে।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য বোলিং ‘উপহার’ রশিদের

অভিযোগ তৎকালীন ফিফা প্রেসিডেন্ট শেপ ব্লাটারের নির্দেশমতো কাতারকে বিশ্বকাপের দায়িত্ব পাইয়ে দিতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন উয়েফা প্রেসিডেন্ট প্লাতিনি। এমনকি আয়োজক হিসেবে ঘোষণা করার আগে কাতারের ফুটবল প্রশাসক বিন হাম্মামের সঙ্গে গোপন বৈঠকও সেরেছিলেন প্লাতিনি, এমন কথাও প্রকাশ্যে আসে। পরে সেকথা স্বীকারও করেন তিনি। ফিফার প্রাক্তন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জ্যাক ওয়ার্নার প্রাথমিকভাবে দাবি করেছিলেন যে, মোটা অর্থের বিনিময়ে কাতারকে বিশ্বকাপ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই গোটা ঘটনাটির তদন্ত অগ্রসর হয়।

জানা গিয়েছে, বছর তেষট্টির প্লাতিনি ছাড়াও দুই প্রাক্তন অধিকারিককেও হেফাজতে নিয়েছে দুর্নীতি দমন শাখা। যার মধ্যে অন্যতম আইনজীবী সোফি ডিয়ন। যিনি প্রেসিডেন্টের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করতেন।