নয়াদিল্লি: প্লাস্টিক দূষণ রোধ করা নিয়ে গোটা বিশ্ব এই মুহূর্তে চিন্তিত। আর এই নিয়ে এবারে ভারতীয় সেনা নিল এক নয়া পদক্ষেপ। সুস্থ পরিবেশ রক্ষা করা এবং দূষণ হ্রাস করার জন্য প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করল রাস্তা সারাই করার কাজে। ভারত সরকার প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করার বিষয়ে বহুবার সাধারণ মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করেছেন। আর এই কারণে ভারতীয় সেনা রাস্তা সারাই করার কাজে এই বর্জ্য পদার্থ ব্যবহার করেছেন। যাতে কিছুটা হলেও দূষণ রোধ করা যায়। বিটুমিনের সঙ্গে বর্জ্য প্লাস্টিক মিশিয়ে এই প্রোজেক্টের কাজ করেছে ভারতীয় সেনা।

দূষণ রোধ করার জন্য বিকল্প শক্তির সন্ধানে এই মুহূর্তে পৃথিবীব্যাপী বিজ্ঞানীরা ব্যস্ত। আর প্লাস্টিক দূষণ রোধ করার জন্য এই বিকল্প পন্থার উপরে বারবার জোর দিয়ে চলেছে তাঁরা। কেননা প্লাস্টিক এমন এক পদার্থ যা একেবারে প্রকৃতিতে মিশে যেতে সময় লাগে বহু বছর। আর তাই দূষণ রোধ করার জন্য এই সকল বর্জ্য পদার্থকে অন্যভাবে ব্যবহার করার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ দেখাল ভারতীয় সেনা।

এই প্রকল্পের জন্য ১.২৪ মেট্রিক টন প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করা হয়েছিল। এই সকল বর্জ্য পদার্থের সঙ্গে গরম বিটুমিন মিশিয়ে রাস্তা সারাই করা হয়েছিল। এটি একটি ‘সবুজ টেকনোলজি’ যার প্রধান উদ্দেশ্য প্লাস্টিক ব্যবহারের হার কমানো। যার ফলে একদিকে যেমন দূষণ কমানো যাবে তার সঙ্গে রাস্তার স্থায়িত্ব বাড়বে।

এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো, পুনঃব্যবহার করা এবং রিসাইকেল করা। এছাড়া যেহেতু প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করা হচ্ছে তাতে রাস্তার মেয়াদকাল বাড়বে বলে আশা করা যায়। এছাড়াও অনেক কম খরচে এই রাস্তা সারাই করা এবং তা রক্ষণাবেক্ষণ করা যাবে তাতে যে সকল প্লাস্টিক সমুদ্রে বা জলাশয়ে নিক্ষেপ করা হয় তা অনেকটাই কমবে বলে আশা প্রকাশ করছেন অনেকেই। সাম্প্রতিক পাওয়া তথ্য থেকে জানা গিয়েছে ক্রমাগত প্লাস্টিক ব্যবহারের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জলাশয়ের প্রানীদের জীবনযাত্রা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাস্তুতন্ত্র। তা থেকে অনেকটাই রেহাই পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রকল্প সাফল্য পেলে প্লাস্টিক দূষণ রোধের ক্ষেত্রে এক নতুন দিশা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন অনেকে।