স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: একদিকে হিংসা-দ্বেষ এবং অন্যদিকে গ্লোবাল ওয়ার্মিং, এই দুইয়ের সংযোগে ধরিত্রী আজ দিশাহারা৷ সেই অবস্থা থেকে অন্যরকম একটি কাজ করে নজির গড়লেন তিন বন্ধু৷ বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে পরিবেশ সচেতনাকেই হাতিয়ার করলেন পূর্ব মেদিনীপুরের তিন ব্যক্তি। কীভাবে? তাঁরা তাঁদেরই এলাকার বিভিন্ন সরকারি ফাঁকা জায়গায় বৃক্ষ রোপণ করে চলেছেন৷ তাঁদের ধারণা গাছগুলো যত বড় হবে তাতে বিশ্ব উষ্ণায়ন যেমন রোধ হবে তেমনই তাদের বন্ধুত্বের স্মৃতি ও বহন করবে।

কথায় বলে মানুষের সমস্ত সম্পর্ক একটি চেনা গন্ডি থেকেই পাওয়া যায়, কিন্তু একটা ভাল বন্ধু নিজেকেই খুঁজে নিতে হয়,আবার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু বন্ধুত্ব থেকে যায়, কিছু বন্ধুত্ব হারিয়ে যায়। এটা অনুভব করতে পেরেছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের খঞ্চির আকাশ, সৌমিত্র ও ব্যবর্ত্তার খোকন।

তাদের বন্ধুত্ব সেই স্কুল জীবন থেকে, এক একটা দিন কেটে গেছে হাসি কান্নার মধ্য দিয়ে, তারা তিন জনেই একই কলেজের একই বিভাগের ছাত্র। সৌমিত্র কিছু দিনের মধ্যেই উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় আসবেন বলে মনোস্থির করেছেন। আকাশ ও খোকনের আর্থিক অবস্থা ভাল না থাকায় তারা কলেজের পড়াশুনা সম্পূর্ণ করতে পারেননি, যদিও এখন কলেজের সঙ্গে যুক্ত, এবং পড়াশোনা ছেড়ে দেননি৷

তিন বন্ধু আলাদা হয়ে যাবে, কিন্তু তাদের বন্ধুত্ব অটুট রাখার জন্য তারা একটি পরিকল্পনা করেন৷ তিন জনে মিলে নিজেদের এলাকায় বৃক্ষ রোপণ শুরু করেন, গাছ গুলো বড় হলে বিশ্ব উষ্ণায়ন যেমন রোধ করবে তেমনই গাছ গুলো তাদের বন্ধুত্বের স্মৃতিও বহন করবে। তারা কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জায়গা থেকেও গাছ সংগ্রহ করে প্রায় এক হাজার গাছ লাগিয়েছেন, যত দিন পারবেন তারা এইভাবে গাছ লাগাবেন আর তার রক্ষণাবেক্ষণ করবেন, এটাই তাঁদের লক্ষ্য, এটাই তাঁদের স্বপ্ন৷