নিউ ইয়র্ক: ২০২০ এখনও শেষ হয়নি। প্রথম অর্ধেকেই যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, বাকি অর্ধেকে তা কাটানো সম্ভব হবে কিনা জানা নেই। এরই মধ্যে উড়ে এসে জুড়ে বসছে আরও অনেক ভাইরাস। এবার হাজির বিউবনিক প্লেগ, যা একসময় মহামারীর আকার ধারণ করেছিল।

আবারও সামনে আসছে পুরনো শত্রু। যার নাম বিউবনিক প্লেগ। চিন ও মঙ্গোলিয়ায় আগেই এই রোগের আতঙ্ক শুরু হয়েছিল। এবার সেই রোগ পৌঁছে গেল মার্কিন মুলুকে।

জানা গিয়েছে, কলোরাডোতে একটি কাঠবিড়ালির শরীরে এই মারণ ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের তরফে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

Jefferson County Public Health বিভাগের দাবি, গত ১১ জুলাই প্রথম কাঠবিড়ালির শরীরে এই মারণ রোগ ধরা পড়ে। এই প্রথমবার আমেরিকায় এই রোগের হদিশ পাওয়া গেল।

করোনার মধ্যেই চিন ও প্রতিবেশী মঙ্গোলিয়ায় বুবোনিক প্লেগের আবির্ভাব হয়। দক্ষিণ-পশ্চিম মঙ্গোলিয়ার গোবি-আলতাই প্রদেশে এই বিউবনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারায় ১৫ বছরের এক কিশোর। মঙ্গলবারই মঙ্গোলিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রক এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেছে।

জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই মারমোট শিকার করে খেয়েছিল ওই কিশোর। তারপরেই অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। চিকিৎসকদের শত চেষ্টাতেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মঙ্গোলিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ‘কিশোরের সংস্পর্শে আসা ১৫ জনকে কোয়ারানটিনে রাখা হয়েছে। গোবি-আলতাই প্রদেশের ৫টি জেলার বাসিন্দাদেরও ৬ দিনের জন্য কোয়ারানটিনে থাকতে বলা হয়েছে।’

 

মঙ্গোলিয়ায় প্রত্যেক বছরই অন্তত একজন এই রোগে মারা যায়। এই প্লেগ ছড়ানোর জন্য় দায়ী কাঠবিড়ালী জাতীয় এক ধরনের ছোট প্রাণী, মারমোট। মারমোটই বিউবনিক প্লেগের জীবাণু বহন করে। মঙ্গোলিয়া প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মারমোট খাওয়া বন্ধ হয়নি।

গত বছরের এপ্রিলে মঙ্গোলিয়ায় বিবোনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়। তারা মারমোটের কাঁচা মাংস খেয়ে আক্রান্ত হন। এদিকে উত্তর চিনের ইনার মঙ্গোলিয়া প্রদেশেও বুবোনিক প্লেগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যারজেরে চলতি বছর শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। বুবোনিক প্লেগের জেরে রাশিয়া সতর্কতা জারি করেছে। ব্রিটেনও মঙ্গোলিয়া সফরকারীদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে।

মধ্যযুগে ‘ব্ল্যাক ডেথ’ নামে পরিচিত ছিল বুবোনিক প্লেগ। চতুর্দশ শতাব্দীতে এই প্লেগের প্রকোপেই এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপে ৫ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে এই ভাইরাস আর ততটা ভয়াবহ নেই। তবে করোনার মধ্যেই ‘ব্ল্যাক ডেথ’-এর আবির্ভাবে চিন্তিত চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ